বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

নির্বাচনের সরব প্রস্তুতি সিলেট আওয়ামী লীগে



বিজ্ঞাপন

লাতু ডেস্ক:: তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। মাঠে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলের প্রস্তুতি তেমন নেই। বিএনপি ও সমমনা দলের নেতারা রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়। নির্বাচন নিয়ে তারা ভাবছেন না। ভোটাররাও রয়েছেন পর্যবেক্ষণে। নির্বাচনের চেয়ে দেশের পরিস্থিতি জানতে আগ্রহী তারা। এতে করে তফসিল ঘোষণা হলেও নির্বাচন নিয়ে তেমন আমেজ নেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনপদ সিলেটে। তবে সরকারি দল আওয়ামী লীগে নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় বেশি।

ভিআইপি প্রার্থীরা ছাড়া অন্যরা মাঠে সরব রয়েছেন। সিলেট-২, সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে প্রার্থিতাকে ঘিরে কৌতুহল দেখা দিয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে নির্বাচন নিয়ে এখনো আমেজ তৈরি হয়নি।

এ আসনের বর্তমান এমপি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তিনি পুরোপুরি নির্বাচনমুখী না হলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপও কম। এ কারণে ধরেই নেয়া হচ্ছে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে যাচ্ছেন ড. একে আব্দুল মোমেন। বুধবার রাতে তার সমর্থনে শহরতলীর শাহপরানের একটি হোটেলে সভা হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে বিজয়ী করতে মতবিনিময় করেছেন।

তারা জানিয়েছেন, নানা কাজে মন্ত্রী ব্যস্ত থাকায় সিলেট সিটি ও সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতারা নৌকার পক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের বিচরণ রয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে দু’জনের কেউ এখনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তারা মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন।

সিলেট-২ আসনে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে কেউ প্রার্থী হননি। এতে এ আসনের আওয়ামী লীগের সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এবার এ আসন থেকে তারা নৌকার প্রার্থী চাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এ আসন থেকে এমপি প্রার্থী করার দাবি উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীকে। শফিক চৌধুরী প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তার সঙ্গে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন ডা. অরূপ রতন ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী। তিনদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে জগলু প্রার্থী হওয়ার জানান দিয়েছেন।

সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মধ্যে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দৌড়ঝাঁপ বেশি। এ আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে দেড় বছর ধরে এমপি রয়েছেন। এই সময়ে তিনি চমকও দেখিয়েছেন। তবে বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল গত দেড় বছর ধরে মাঠে রয়েছেন। ডা. দুলালের পক্ষে আসনের তিনটি উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃর্ণমূল নেতা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জকন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসাইন ও আব্দুল রকিব মন্টুও প্রার্থী হতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এর বাইরে শরিক দল জাতীয় পার্টি এ আসনে জোটবদ্ধ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইছে। ফলে আসনের হিসাব-নিকাশ জটিল হয়ে উঠেছে। সিলেট-৪ আসনে বর্তমান এমপি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি গত ৩-৪ মাস ধরে ঘন ঘন সফর করছেন।

এ ছাড়া এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়া। জেলা ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে গোলাপ মিয়া ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মাহফুজুর রহমান, সিলেট মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম রোমেন ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এ আসনটি শরিক দল জাতীয় পার্টি চায়। সিলেট-৫ আসনের বর্তমান এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদার।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হলেও বিগত ৫ বছর এলাকার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল কম। এ আসনে এবার সবচেয়ে বেশি সক্রিয় সিলেট নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ। তিনি এলাকায় ঘন ঘন সফর করছেন এবং তার পক্ষে জকিগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃর্ণমূলের নেতারাও ঐক্যবদ্ধ। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. আহমদ আল কবির, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মোস্তাক আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী।

সিলেট-৬ আসনে বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন। গত ৬ মাস ধরে এলাকায় যাতায়াত বাড়িয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সরওয়ার হোসেন। সিলেটে পরপর দু’দফা বন্যা ও করোনায় তিনি এলাকার মানুষের কাছাকাছি ছিলেন।

এ কারণে এ আসনের আওয়ামী লীগের তৃর্ণমূলের বড় অংশ তার পক্ষে রয়েছেন। সরওয়ার হোসেন নৌকা পেতে দলের ভেতরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন বলে দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফসার খান সাদেক, গোলাপগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিমও নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে চেয়ারম্যান এলিম প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন- সিলেট আওয়ামী লীগে নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। যারা প্রার্থী হবেন তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের মাঠে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। ভোটাররাও সরব হয়ে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে আস্থা বিশ্বাসের কারণে সিলেটবাসী আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করবে বলে জানান তিনি।