বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

মৌলভীবাজারে বিএনপির কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা, আহত ৩০



বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারে বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা পৌনে একটার দিকে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ হামলা করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কাছাকাছি সময়ে মানববন্ধনের জন্য জমায়েত হয় বিএনপি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অশ্লীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় হামলার ঘটনা ঘটে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দী নেতা-কর্মীদের মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নিত্যপণ্যের দাম কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে মানববন্ধন করে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি।

স্থানীয় লোকজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় শান্তি সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। দুপুর ১২টায় কর্মসূচি শেষে করে তাঁরা মিছিল নিয়ে চলে গেলে মানববন্ধনের জন্য শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে সেই জমায়েতকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যে যাঁর মতো সরে যান। কিছুক্ষণ পর জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী শহীদ মিনারসংলগ্ন পৌর চত্বরে উপস্থিত হন। এরপর সেখানে হামলা করেন ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পৌর চত্বর থেকে শাহ মোস্তফা সড়কের দিকে চলে যান।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, হামলায় এম নাসের রহমান চোখের নিচে ইটের আঘাত পান। তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান, জেলা জাসাসের সদস্যসচিব জসিম তালুকদার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাখনুনুর রহমানসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁরা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলার সময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফয়জুল করিম  বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছিল। আমাদের প্রত্যেকটি কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হয়েছে। তাঁরা ইটপাটকেল, পাথর নিক্ষেপ করেছেন। নাসের রহমান চোখে আঘাত পেয়েছেন। তিনিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। চৌমোহনার দিক থেকে আসা একটি মিছিল আমাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেটের সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে তাঁরা হামলা করেছেন। মৌলভীবাজারে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল। এ হামলার মাধ্যমে সিলেট বিভাগে সহনশীল রাজনীতির শিষ্টাচার ভঙ্গ হলো। সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ধৈর্য ধরেছি। কিন্তু নেতার মাথা ফাটবে, আঘাত আসবে, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। পরবর্তী সময়ে এমন হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে।’

তবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে আওয়ামী লীগ শহীদ মিনারে শান্তি সমাবেশ করে দুপুর ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে বেরিয়ে যায়। মিছিলটি শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কে পৌঁছানোর পর বিএনপি শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করে। জমায়েত থেকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে অশ্লীল স্লোগান ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। এটা শোনার পরই মিছিল থেকে ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনার এলাকায় ফেরত আসেন এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দেন।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘নেত্রী সম্পর্কে অশ্লীল বক্তব্য ও স্লোগান দিয়েছে। প্রথমে তাঁদের সরে যেতে বলা হয়েছে। সরে না যাওয়ায় ধাওয়া দেওয়া হয়।’ তাঁদের পক্ষের কেউ আহত হয়নি বলে তিনি জানান।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান বলেন, ‘আমাদের শান্তি সমাবেশ ছিল। আধা ঘণ্টা পরে আমাদের কর্মসূচি শেষ হয়ে যেত। শেষ পর্যায়ে এসে তারা সমস্যা করেছে। পায়ে পা লাগিয়ে গন্ডগোল করতে চেয়েছে। মৌলভীবাজারে এমন ঘটনা ঘটেনি। তাঁরা অন্য জায়গায় পরে কর্মসূচি করতে পারত। তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করলে আমরা বাধা দেওয়ার কে?’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মো. নাসের রিকাবদার বলেন, খুবই অল্প সময়ের ঘটনা ছিল। পুলিশ এক মিনিটের মধ্যে অ্যাকশনে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না হয়, দ্রুত দুই পক্ষকে দুই দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।