রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ



Sex Cams

                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

বড়লেখার বর্ণিতে মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, আহত ১ বাউলশিল্পীর মৃত্যু
এলাকায় চরম উত্তেজনা

এলাকায় চরম উত্তেজনা



বিজ্ঞাপন

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের বড়লেখার বর্ণি গ্রামে জাকির শাহ মাজারের খাদেমকে মাজারপূজারী আখ্যা দিয়ে মাজারে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হামলায় আহত ১ বাউলশিল্পী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতংক বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টায় মাজার প্রাঙ্গণে।

প্রত্যক্ষদর্শী, মাজার কর্তৃপক্ষ, এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, জাকির শাহ মাজারের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন বাউলশিল্পী হিসেবে পরিচিত বর্ণি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান এর ছেলে এমদাদুল হক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দোসর সংগঠন সংঘবদ্ধ হয়ে খাদেম ও বাউলশিল্পী এমদাদুলকে দীর্ঘদিন ধরে ইসলামবিরোধী ও মুরতাদ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলো।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মী এবং কিছু উগ্র ও মৌলবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মব কালচার সৃষ্টির মাধ্যমে মাজারে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এর পরদিন মাজারের খাদেম এমদাদুল হকের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তবে মৌলবাদীদের হামলার খবর তার গোপনে আগে থেকে পেয়ে প্রাণ রক্ষার্থে বাউলশিল্পী এমদাদুল তার পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। তাকে না পেয়ে বাউলশিল্পী এমদাদুল এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সূফী ও বাউলগান দলের সদস্য শরীফুল দেওয়ানকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

স্থানীয় লোকজন আহতকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বাংলাদেশের বাউল সম্প্রদায় ঐতিহ্যগতভাবে মানবতাবাদ, আধ্যাত্মিকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে আসছে। কিন্তু বাউল সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। গ্রামীণ এলাকায় উগ্রবাদী গোষ্ঠিগুলোর দ্বারা বাউলদের ওপর হামলা, নির্যাতন, সামাজিকভাবে বিতাড়িত ও জোরপূর্বক ধর্মীয় অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা একাধিকবার ঘটে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার জুড়ীতে মজনু শাহের মাজারেও হামলা-ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন জেলায় বাউলদের ওপর হামলা, তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়া, প্রকাশ্যে মারধর এবং গান পরিবেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনাও ঘটেছে। তবে বরাবরই স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব থেকেছে এসব ঘটনায়।

বড়লেখার কৃতিসন্তান দর্শনের অধ্যাপক ও সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর লেখক কালিপ্রসন্ন দাস বলেন, বাউল দর্শনের মানবতাবাদী ও উদার চিন্তাধারা উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠিগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এ ধরনের সহিংসতা বারবার ঘটছে।

এ বিষয়ে জাকির শাহ মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সূফীসাধক মহসিনুর রহমান জানান, মৌলবাদী গোষ্ঠি ৫ আগস্টের পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাউলগানকে বিদআত বলে ঘোষণা করে এবং আমাদেরকে নাস্তিক-মুরতাদ আখ্যা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন চালাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনও মাঠে থেকেও নেই। আমরা নিরুপায়।

এলাকার বাসিন্দা ও প্রবীণ মুরব্বি বশির আলীসহ একাধিক লোকজন এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বাউল সম্প্রদায়ের লোকজন ও তাদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়লেখা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্ত্তী জানান, ঘটনাটি শুনেছি। একজন বাউলশিল্পী মারা গেছেন বলেও শুনেছি। এর বেশি কিছু তিনি বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।