মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ



Sex Cams

                    চাইলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন

বড়লেখায় ডাব চুরির অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা, ভিডিও ভাইরাল



বিজ্ঞাপন

এ.জে লাভলু:: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ডাব চুরির অভিযোগ তুলে উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদকসহ দুজনকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত নয়টায় দক্ষিণভাগ বাজার সমিতির কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

জুতাপেটার শিকার দুজন হলেন দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক আলী হোসেন মান্না ও ফইয়াজ আলী। মান্না উপজেলার গজভাগ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে এবং ফইয়াজ আলী দক্ষিণ দোহালিয়া গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান শাহীন প্রকাশ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা আলী হোসেন মান্না ও ফইয়াজ আলীকে জুতা দিয়ে মারছেন। এ সময় স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল হকসহ বেশ কয়েকজন পাশের চেয়ারে বসা ছিলেন। ওই সময় মারধরের ভিডিও স্থানীয় একজন ধারণ করছিলেন। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে আলী হোসেন মান্না আপত্তি জানান।

এদিকে মান্নাকে বিভিন্ন সময় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেলেও ডাব চুরির অভিযোগ ওঠার পর দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মইজ উদ্দিন ২১ মার্চ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মান্নাকে ২০২৪ সালে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মারধরের কারণ জানতে চাইলে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক আলী হোসেন মান্না মঙ্গলবার রাতে বলেন, তিনি ২০১৪ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ২০১৯ সালে ইউনিয়ন ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে তার ছাত্রত্ব না থাকায় দলীয় সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছায় দল থেকে অব্যাহতি নেন। পরবর্তীতে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেনসহ দলের নেতৃবৃন্দের পরামর্শক্রমে তাকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদে প্রার্থী করা হয়। পরে তাকে বলা হয় ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়া হবে। তিনি এখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে বলেন, বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি উল্লেখযোগ্য প্রচার কার্যক্রম চালিয়েছেন।

সেদিনের ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরদিন রবিবার সকাল আটটার দিকে আমি দক্ষিণভাগ বাজারে আসি। আমার বাবা দক্ষিণভাগ পোস্ট অফিসে চাকরি করেন। সেখানে কিছু নারকেল গাছ ও আমগাছ রয়েছে। পোস্ট অফিসকে অবগত করেই ওই দিন একজনকে (ফইয়াজ আলী) দিয়ে আমি ১৫টি ডাব পাড়াই। পরে পাশের এক দোকানদার এসে বলেন, এই ডাবগুলো কার পাড়ছ? তখন আমি বলি, গাছগুলো পোস্ট অফিসের। ডাব চুরি হচ্ছে, এজন্য আমি পাড়ছি। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তর্কে জড়াই। পরে আমি জানতে পারি, পোস্ট অফিসের নারকেল গাছের পাশের যে গাছগুলো আছে সেগুলো সাবেক এমপি ইমান উদ্দিন ও সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনদের। পরে বিষয়টি নিয়ে আমি গাছের মালিক লন্ডনপ্রবাসী সাবু ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলি। এ সময় তিনি তাদের বাড়ির কেয়ারটেকারদের বলেন, মান্না আমার ছোট ভাই। সে যে ডাব পেড়েছে অর্ধেক তাকে দিয়ে দাও, অর্ধেক বাড়িতে নিয়ে আসো। সেখানেই বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করে আসি। পরবর্তীতে বাজারের সভাপতিসহ সবাই আমাকে ডেকে নেন। পরে আমাকে উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক ও দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান শাহীন বলেন, বিষয়টি তিনি সমাধান করে দেবেন, আমাকে বাঁচাবেন। তিনি আমাকে মেসেজ দেন। আমি উত্তর দিইনি। পরে তিনি মেসেজ কেটে দেন। পরে রাতে আমাকে জোরপূর্বক বিচারের জন্য ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বাদীপক্ষকে না ডেকে একতরফাভাবে আমাকে জুতা দিয়ে মেরে ভিডিও ধারণ করা হয়। তারা আমার মানহানি করেছেন। আমি মামলা করব।’

এ বিষয়ে জানতে দক্ষিণভাগ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে মঙ্গলবার রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে বাজারের বিভিন্ন স্থানে ডাব চুরি হচ্ছিল। কাউকে ধরা যাচ্ছিল না। গত রবিবার ঈদের পরদিন সকাল ৮টার দিকে দক্ষিণভাগ বাজারের একটি মার্কেটের ডাবগাছ থেকে ডাব চুরির সময় আলী হোসেন মান্নাসহ দুজনকে হাতেনাতে ধরেন স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী সিরাজ। পরে তিনি বিষয়টি বাজার সমিতিকে জানান। পরবর্তীতে এই ঘটনায় সমিতির কার্যালয়ে সভা ডাকা হয়, যেখানে বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অভিযুক্ত মান্না ও ফইয়াজও ছিলেন। তারা ডাব চুরির কথা স্বীকার করেছেন। চুরির কথা স্বীকার করায় তার এক আত্মীয় (খলিলুর রহমান শাহীন) মান্নাসহ ফইয়াজকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে মারেন।

জুতা দিয়ে প্রকাশ্যে মারধরের বিষয়ে জানতে দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান শাহীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে তাদের একটু মারধর করেছেন। জুতা দিয়ে মারা ঠিক হয়নি।

দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান বলেন, আলী হোসেন মান্না একসময় ছাত্রদলের সহপ্রচার সম্পাদকের পদে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ ওঠায় তাকে মৌখিকভাবে শোকজ করা হয়। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি স্বেচ্ছায় সহপ্রচার সম্পাদকের পদ থেকে লিখিতভাবে অব্যাহতি নেন। বর্তমানে তার সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রহমান বলেন, ডাব চুরির অভিযোগে আলী হোসেন মান্নাকে আটক করে মারধর করা হয়েছে। তিনি দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কেউ নন। এরপরও বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে তাকে ছাত্রদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক বলে পোস্ট করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ২০২৪ সালে দল থেকে অব্যাহতি নিলে তিনি কীভাবে ওই দলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক হন? আলী হোসেন মান্নার সঙ্গে বিএনপি পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। তার যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় তিনি নিজেই বহন করবেন।

বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, ঘটনাটি শোনেননি। কেউ অভিযোগও দেয়নি। তারপরও বিষয়টি খোঁজ নেবেন।