নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদের বাড়ি এবং তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামসহ ১১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
জানা গেছে, জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান (চুনু) গত বুধবার রাতে জুড়ী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিনহাজ উদ্দিন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং একজন গণমাধ্যমকর্মী রয়েছেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নাসির উদ্দিন আহমেদের বাড়ি জুড়ী উপজেলা সদরের উত্তর ভবানীপুর এলাকায়। তাঁর বাড়ির সামনেই ছিল প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়। নির্বাচনে তিনি ৯৮ হাজার ২৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম পান ৮৩ হাজার ১৩ ভোট।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট টানতে বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক ও হতদরিদ্র ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে ফুলতলা ইউনিয়নে টাকা বিতরণের সময় স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে তাঁরা সরে যান। পরে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া চা-বাগান এলাকাতেও একই ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে একটি প্রাডো গাড়ির সামনের কাচ ভাঙচুর হয় এবং কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে জুড়ী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিম উদ্দিন বিএনপির প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ বিষয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হামলার অভিযোগে মামলা, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওসি মো. মিনহাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






