শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



যুক্তরাজ্যে যেসব কারণে সংকুচিত হচ্ছে সিলেটি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দুয়ার!



বিজ্ঞাপন

লাতু ডেস্ক:: সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে সংকুচিত হয়ে এসেছে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ। যুক্তরাজ্যের অন্তত অর্ধশত বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তিন কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলে জানিয়েছেন ‘স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিং’র সাথে সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে কোর্স শেষ না করা। যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধভাবে ইউরোপের অন্যান্য দেশে চলে যাওয়া এবং পড়ালেখা করতে গিয়ে ভিসার ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা।

জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি বিভিন্ন এডুকেশন গ্রুপের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী নিয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যের এসব এডুকেশন গ্রুপ আবার বাংলাদেশি বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহীদের আবেদন করিয়ে থাকে। গেল ২-৩ বছর ধরে শিক্ষা ভিসা কিছুটা সহজ করায় বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে যান। এর মধ্যে বড় অংশ ছিল সিলেটের।

যুক্তরাজ্যে সিলেট অঞ্চলের লোকজন বেশি হওয়ায় উচ্চ শিক্ষার জন্য এখানকার শিক্ষার্থীদেরও আগ্রহ বেশি। ফলে গেল এক বছরে শুধু সিলেট থেকে অন্তত ১০ হাজার শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ৬ মাসের টিউশন ফি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়তে যান। এর মধ্যে অনেকেই সেখানে গিয়ে পড়ালেখার খরচ মেটাতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ আবার কেয়ার গিভারসহ বিভিন্ন ধরণের ওয়ার্কপারমিটে নিজেদের স্টুডেন্ট ভিসা পরিবর্তন করে নিয়েছেন।

এছাড়া অনেকে যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধভাবে ফ্রান্স ও পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পড়েছে শিক্ষার্থী সংকটে। আসন সংখ্যা পুর্ণ করে সেমিস্টার শুরু করলেও পরবর্তীতে সিলেট থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য তাদেরকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এজন্য আগামী মে সেশন থেকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সিলেটের শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে কঠোর হয়েছে।

স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড এডুকেশন গ্রুপ, স্টাডি গ্রুপ, ক্যামব্রিজ এডুকেশন গ্রুপ ও কিউএ সহ কয়েকটি এজেন্সি সিলেটের শিক্ষার্থীদের আবেদন না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই গ্রুপগুলোর অধীনে যুক্তরাজ্যের অন্তত অর্ধশত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ‘ফরেন এডমিশন এন্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ সিলেটের সভাপতি মো. ফেরদৌস আলম।

সূত্র জানায়, উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য যেতে হলে শিক্ষার্থীদের ইরেজি ভাষার উপর নিজের দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হয়। এজন্য শিক্ষার্থীরা ‘ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম-আইইএলটিএস’ কিংবা ‘অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টেস্টিং সেন্টার-ওআইইটিসি’ দিতে হয়। আইইএলটিএস থেকে অপেক্ষাকৃত সহজ হওয়ায় ইংরেজিতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা ওআইইটিসি বেছে নেন।

ওআইইটিসি পরীক্ষা দিতে গিয়েও অনেকে অসদুপায় অবলম্বন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন আর ওআইইটিসিকে গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে না। ইতোমধ্যে যারা নিজেদের বাসা-বাড়িতে বসে ওআইইটিসি দিয়েছেন তাদের ফলাফলকে গ্রাহ্য করছে না তারা। এখন থেকে তারা নিজস্ব কেন্দ্র ও প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তবে আগামীতে ওআইইটিসি দিয়ে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে পারবেন কি-না এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা এখন আইইএলটিসের দিকেই ঝুঁকছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ‘ফরেন এডমিশন এন্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ সিলেটের সভাপতি মো. ফেরদৌস আলম বলেন, ‘নানা কারণে যুক্তরাজ্যের অন্তত অর্ধশত বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট থেকে শিক্ষার্থী না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং যাদের টিউশন ফি বহন করার সক্ষমতা রয়েছে তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের জন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুয়ার খোলা রয়েছে।’