শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



হাকালুকিতে দুর্বৃত্তের দেওয়া বিষে মরল ২০ লাখ টাকার মাছ



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মৌলভীবাজারের বড়লেখার তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরের চৌ-ঢালু উগলা কালাচান্দের ঢর বিলে দুর্বৃত্তের দেওয়া বিষে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) বিল থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার মরা মাছ উঠানো হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে বিলে বিষ দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর তিনদিনে আরও প্রায় ১৯ লাখ টাকার মাছ মারা পড়ে।

ইজারাদার সমিতি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাকালুকি হাওর পাড়ের তালিমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুর্শিদাবাদকুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি চৌ-ঢালু উগলা কালাচান্দের ঢর বিলটির কয়েক বছর আগে ইজারা পায়। এরপর তারা এ বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে। গত ২৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে ১০ থেকে ১৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত দেশীয়-অস্ত্রশস্ত্রসহ বিলের চারদিক ঘিরে পানিতে বিষ ঢেলে দেয়। এসময় বিলের মাঝখানে থাকা পাহারাদাররা বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার দেয় এবং বিষয়টি মুঠোফোনে ইজারাদার সমিতিকে জানায়। এরপর ইজারাদারের লোকজন এলাকা থেকে বের হলে দুর্বৃত্তরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখন ইজারাদারের লোকজন দেখতে পান বিলের পানিতে মাছ মরে ভেসে উঠছে। তারা ঘটনাটি থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে রাতেই বড়লেখা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরদিন শনিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) পর্যন্ত বিলে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে।

দক্ষিণ মুর্শিদাবাদকুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য মো. শামীম আহমদ বলেন, ‘আমরা বাড়িতে ছিলাম। পাহারাদার ফোন করে ঘটনা জানায়। তারা অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিল ঘেরাও করে পানিতে বিষ ঢালে। ওরা (দুর্বৃত্তরা) সংখ্যায় বেশি হওয়ায় পাহারাদাররা প্রতিরোধ করতে যায়নি। কারণ এরআগেও দুর্বৃত্তরা বিলের এক পাহারাদারকে খুন করে। প্রতিহিংসা করেই একটি চক্র এই কাজটি করেছে। দুর্বৃত্তরা বিষ দিয়ে যাওয়ার পর আমাদের এক পাহারাদারকে ফোনে হুমকি দিয়েছে। এই ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই আমরা থানায় অভিযোগ করতেছি। আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। প্রতিদিন মাছ মারা যাচ্ছে।’`

বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তখন কিছু মাছ মারা যেতে দেখি। তবে এই ঘটনায় ইজারাদারদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি আমরা।’