রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালালেন জুড়ী উপজেলা আ.লীগের সম্পাদকের স্ত্রী!



বিজ্ঞাপন

লাতু ডেস্ক:: জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাসুক আহমদের স্ত্রী শিরিন আক্তার পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদ সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন।

শনিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে জুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাবে ‘নিজের স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পলায়ন, বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ও মামলা দায়ের এবং প্রচারণার’ অভিযোগ তুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের জনগণের ভোটে বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। এক জন ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে গোটা সিলেট অঞ্চলে আমার পরিবারের সবার পরিচিতি রয়েছে।

২০০২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শিরিন আক্তারকে বিয়ে করি। আমাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তার পিতার আর্থিক অবস্থা নাজুক হওয়াতে বিয়ের পর থেকে আমি তার পরিবারের খরচ বহনের টাকা প্রদান করে থাকি, তার বোনদের বিয়ের সব টাকাও আমি দিয়েছি।তার ভাইকে আমার ইউনিয়নে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর আগে আমি জানতে পারি আমার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত। এ নিয়ে কয়েকবার পারিবারিকভাবে সালিশে সে ক্ষমা চাওয়ায় আমি সংসার করি। এত কিছুর পরও সে তার অভ্যাস না বদলিয়ে আমার বাসায় বিভিন্ন সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় করার চেষ্টা চালিয়ে যায়।

গত কিছুদিন আগে সে শপিংয়ে যাওয়ার কথা বলে, একজন পুরুষের হাত ধরে পালিয়ে গিয়ে সিলেটে অবস্থান করে। তাকে খোজাখুজি করে না পেলে আমি তার পরিবারকে অবগত করি। পরে জানতে পারি সে একজন পুরুষের সাথে সিলেটে অবস্থান করছে।

‌’গত ২৪ জানুয়ারি সে আমাকে তালাক প্রদান করে। এরপর থেকে কুলাউড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে জায়ফর নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুসলেহ উদ্দিনের ছেলে সুমন আহমদের সাথে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। এর ৫ মাস পর ২১ জুন মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে একটি মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করে। মামলায় উল্লেখ করে আমি ২০ লক্ষ টাকা দাবী করেছি। অথচ তার সাথে সংসার চলাকালে তার ও তার পরিবারে সবমিলিয়ে আমার প্রায় অর্ধ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। মামলা দায়েরের পর আদালতে আত্মসমর্পণ করিলে আদালত আমাকে জামিন প্রদান করেন।’

তিনি বলেন, আদালত সর্বোপরী আমার অবস্থান বিবেচনা করে আইনজীবিদের মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য মৌখিক ভাবে আহ্বান করিলে সে তাদের কথায় কোন কর্ণপাত করছে না। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মামলায় হাজির হওয়ার তারিখ ছিল। আমি এই দিন আদালতে উপস্থিত হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়। তবে আমি আদালতে হাজির হলে আদালত আমাকে জামিন প্রদান করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, মিথ্যা মামলা থেকে আমি মুক্তি চাই পাশাপাশি ভুল তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।