রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



মৌলভীবাজারে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি পর্যটন খাতে



বিজ্ঞাপন

লাতু ডেস্ক:: পর্যটনকে কেন্দ্র করে ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং চা বাগানকে সম্পৃক্ত করে মৌলভীবাজার জেলার ব্র্যান্ডিং নির্বাচন করা হয়েছিল। পর্যটন ছিল মৌলভীবাজারের সম্ভাবনাময় খাত। পর্যটনের উন্নয়নে অপর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং সরকারের তদারকির অভাবে আলোর মুখ দেখছে না এ খাত।

সূত্র জানায়, ১০ বছরে এ জেলার পর্যটন খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উন্নত আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় দেশ-বিদেশের পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন মৌলভীবাজার থেকে।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিনিয়তই পর্যটক কমছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। সম্ভাবনাময় এ খাতকে এগিয়ে নিতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট দফতরের। সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা দায়সারা কাজ করছেন। জেলার হোটেল-রিসোর্টের বেশির ভাগই অধিকাংশ সময় ফাঁকা পড়ে থাকে। কভিড-১৯ এ কারণে দীর্ঘ সময় পর্যটন স্পট বন্ধ থাকার পর গত ঈদুল ফিতরে সম্পূর্ণরূপে খোলা হলেও দেখা মিলছে না পর্যাপ্ত পর্যটকের।

জেলার পর্যটন স্পটগুলো ঈদুল আজহার ছুটিতেও পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। ব্যবসায়ীরাও হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। কিন্তু আশানুরূপ বুকিং হয়নি। প্রতিটি ঈদে যেখানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, বড়লেখা, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জের পর্যটন স্পটগুলো হাজার হাজার পর্যটকের ভিড়ে মুখর থাকত চলতি বছর সেখানে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় লোকশূন্য হয়ে আছে। নেই কোথাও কোলাহল।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, খাসিয়া পল্লী, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, দেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুন্ড, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ছায়া নিবিড় পরিবেশে অবস্থিত নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরীসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, শ্রীমঙ্গলের নীলকণ্ঠের সাত রংয়ের চা, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান, চা গবেষণা কেন্দ্র, কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ী, মুরইছড়া ইকোপার্ক, গগনটিলা, দোলনচাঁপা ইকোপার্ক, মৌলভীবাজার সদরের বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, মুন ব্যারাজ, রাজনগরের কমলারানীর দিঘিসহ জেলার বিভিন্ন চা বাগান জীবনধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ যে কোনো পর্যটকের মন ও দৃষ্টি কেড়ে নেবে।

পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটকরা এখন আর মৌলভীবাজার আসতে চান না। তারা দেশের অন্য জায়গায় কিংবা বিদেশে যান। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, পর্যটন খাতে নতুনত্ব আনতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।