শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



বড়লেখায় উপকারভোগীদের তথ্য দিতে মৎস্য কর্মকর্তার লুকোচুরি



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তির কথা। কিন্তু মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালিকার বাইরে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের পোনা মাছ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে উপকারভোগীদের তালিকা ও পোনা সরবরাহকারী ঠিকাদারের তথ্য দিতে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে লুকোচুরি করছেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন জলাশয়ে অবমুক্ত করা মাছের পোনা মারা যাচ্ছে। উপজেলা পরিষদ জলাশয় ও বড়লেখা সরকারি কলেজ জলাশয় ও দক্ষিণভাগ এলাকার একটি জলাশয়সহ বেশ কয়েকটি জলাশয়ে পোনা মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা গেছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা।

তাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী সুস্থ-সবল, যথাযথভাবে ওজন পরীক্ষা ও আকারে ১০-১৫ সেন্টিমিটার পোনা সরবরাহ করার কথা থাকলেও পোনা মাছগুলো ছিলো দুর্বল ও নির্ধারিত আকারের চেয়েও ছোট। এছাড়া জলাশয়ে অবমুক্ত করার আগেও পোনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। যার কারণে জলাশয়ে অবমুক্তির পর পোনা মাছগুলো মরে ভেসে উঠছে।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কোটেশনের মাধ্যমে সরকারী রাজস্ব বাজেটের আওতায় উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ৪৬ প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে অবমুক্তির জন্য ৫৬৭ কেজি পোনা (রই, কাতল, মৃগেল ও ঘনিয়া) সংগ্রহ করে। এতে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক জলায়শয়ে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। পোনা মাছ জলাশয়ে অবমুক্তির পূর্বে স্বাস্থ্য, নমুনা ও যথাযথভাবে ওজন পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা না করেই পোনা জলাশয়ে অবমুক্ত করেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপকারভোগী জানান, মৎস্য কর্মকর্তা আমাদের যে পোনা মাছ দিয়েছেন তা ওজন ও সাইজে ঠিক ছিল না। মাছগুলো সুস্থ-সবলও ছিলো না। মাছগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেই দেওয়া হয়েছে। যার কারণে পোনাগুলো মারা যাচ্ছে। মাছ পচে পুকুরের পানিতে দুর্গন্ধ হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।

তথ্য নিতে মৎস্য কার্যালয়ে গেলে বড়লেখা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, মৎস্য ক্রয় কমিটির সভাপতি ছিলেন ইউএনও স্যার (বড়লেখার সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী)। এছাড়া প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তাও কমিটিতে ছিলেন। সভাপতির নির্দেশের বাইরে আমার কিছু করার ছিল না। উনি যেভাবে চাইছেন সেভাবেই কেনা হয়েছে। আমার অফিসে কোনো তথ্য এখন নেই। পরে দেব।

তবে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বদলি হয়ে অন্য কর্মস্থলে চলে যাওয়া এই বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রথম দিন বড়লেখায় বিতরণে আমি ছিলাম। ৩টি প্রতিষ্ঠানে ছাড়ার সময় কিছু মাছ মরে ভেসে উঠেছিল। তাৎক্ষণিক এগুলো তুলে নতুন করে ভালো পোনা ছাড়ার কথা বলেছি। এছাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে বলেছি এই বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে তাৎক্ষণিক সমাধান করে দেওয়ার জন্য। সমাধান হচ্ছে নতুন করে সমপরিমাণ মাছ দেওয়া।

কারণ ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সঠিকভাবে মাছের পোনা দেওয়ার জন্য। এরপরও বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন বলে জানান।