শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাবা-ছেলের পর এবার মারা গেলেন মেয়ে সামিরা



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের ওসমানীনগরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর মৃত্যু হয় যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাহিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর এবার মেয়ে সামিরা ইসলামও মারা গেছেন। শুক্রবার (০৫ আগস্ট) রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাপসাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন রাত ১টা ৪৯ মিনিটে সামিরার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই রফিকুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন। এরপর ঢাকায় একসপ্তাহ অবস্থান করে ১৮ জুলাই তাজপুর স্কুল রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন । ২৫ জুলাই সোমবার রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী, ২ ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে বাসার একটি কক্ষে রফিকুল এবং অপর দুটি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও শ্যালকের মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন । ২৬ জুলাই মঙ্গলবার সকালে বাসার অন্যান্য কক্ষে থাকা আত্মীয়রা ডাকাডাকি করে রফিকুল ইসলামের রুমের কারো কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি দল গিয়ে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় পাঁচ যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম ও মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন । আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি তিনজনকে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ময়না তদন্ত শেষে ঘটনার পরদিন বিকেলে মৃত বাবা-ছেলের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ । পরে উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের বড় ধিরারাই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এদিকে মারা যাওয়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ও ছেলে সাদিকুল ইসলাম সিলেট ওসমানী হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছেন। তবে মেয়ে সামিরা ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তিনি আইসিইউতে ছিলেন। ১১ দিনেও ফিরছিল না সামিরার জ্ঞান। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বিষক্রিয়ায় সামিরার কিডনি, লিভার কাজ করছিল না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসায় বোর্ড গঠন করে। শেষ পর্যন্ত অচেতন অবস্থায়ই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন সামিরা।