বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



মৌলভীবাজারে কারখানার বর্জ্যে দূষিত জমি



বিজ্ঞাপন

লাতু ডেস্ক:: মৌলভীবাজারের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্যে সদর উপজেলার গুমরা মৌজার খাইঞ্জার হাওরের কৃষিজমি দূষিত হচ্ছে। রাসায়নিক মিশ্রিত দূষিত পানি নর্দমা দিয়ে প্রবেশ করছে হাওরের কৃষিজমিতে। ফলে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি এর প্রভাবে নষ্ট হয়েছে জমির উর্বরতা। শতাধিক বিঘা জমিতে ফসল জন্মাচ্ছে না।

খাইঞ্জার হাওর ঘুরে দেখা যায়, দূষণের ফলে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরের পর বছর এসব ফসলি জমি দূষণের ফলে পতিত পড়ে আছে। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ ফসলবঞ্চিত কৃষিজীবী পরিবারগুলো।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের গুমরা মৌজার ১৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে ১৯৮৭ সালে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে ওঠে। এ শিল্পনগরীর ১০১টি প্লটে ৬১টি ইউনিট বিভিন্ন কোম্পানি ইতিমধ্যে বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে সচল রয়েছে ৩৭টি ইউনিটে প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। বাকিগুলো দীর্ঘদিন পড়ে আছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এদিকে মৌলভীবাজারের বিসিক শিল্পনগরীতে এমিন্যান্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড স্টার এগ্রো, বেঙ্গল ফুড, লক্ষ্মী এডিবয়েল, আগর-আতর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কোম্পানি উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও রাসায়নিক মিশ্রিত পানি সংরক্ষণের অব্যবস্থাপনায় নর্দমা দিয়ে অবাধে নিকটবর্তী খাঞ্জার হাওরের জমিতে নির্গত হচ্ছে। ফলে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে গেছে।

এ কারণে আউশ, আমন কিংবা কোনো ধরনের সবজির ফলন ফলছে না বলে জানান গুমরা গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়া। জয়নাল মিয়া আরও বলেন, বিসিক শিল্পনগরীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

একই গ্রামের মোতালিব মিয়া বলেন, ‘বিসিকের বর্জ্য নালা দিয়া নিরাধারা (হরদম) হাওরে পড়ছে। এ হাওরে মাছ ধরতে কিংবা গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে গেলে দূষিত পানি গায়ে লেগে। এতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া বিসিক কিংবা যেকোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে নিকটবর্তী হাওর কিংবা লোকালয় দূষণ হয়। খাঞ্জার হাওর বাঁচাতে দ্রুত ইটিপি ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।’

সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোশাররফ টিটু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকসহ এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেও কাজে আসছে না। বিসিক শিল্পনগরীর বর্জ্য অব্যবস্থাপনা নিরসন এবং নিকটবর্তী জমিতে দূষিত পানি প্রবেশে ব্যবস্থা নিতে বিসিক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। এরপরও তারা ব্যবস্থা না নিলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক মো. বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘সাময়িকভাবে স্থানীয় কৃষকেরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিসিক এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য (ইটিপি) পানি শোধন যন্ত্র ব্যবহারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে কৃষি ও কৃষক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।’