বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



স্বেচ্ছাচারী অধ্যক্ষ এবং দুই ‘কুশীলব’র ফিরিস্তি!



বিজ্ঞাপন

দেলোয়ার হোসাইন ::
শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ হিসেবে এক সময় তুমুল পরিচিত ছিল। ক’বছর আগেও এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার আলো ছড়াতো। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্রের প্রসঙ্গ উঠলেই সবার মন-মননে আলাদা ‘কদর’ কাজ করতো। মানসম্মত পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলায়ও এই প্রতিষ্ঠানের নাম-ডাক ছিলো।

কিন্তু সময়ের বিবর্তনে খেই হারিয়ে এই প্রতিষ্ঠান আজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ‘উন্নীত’ হয়েছে এবং দিনদিন পড়ালেখার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে! আর এই ‘পতন’ শুরু হয়েছে বর্তমান বির্তকিত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাছিত যোগ দেওয়ার পর থেকেই!

এই অযোগ্য, মেধাহীন ও দুর্নীতিগ্রস্ত আব্দুল বাছিতকে দলীয় বিবেচনায় অধ্যক্ষের চেয়ারে বসিয়েছেন তাঁর-ই ‘ক্লাসমেট’ আহমদ জুবায়ের লিটন ও পুলিশের দালাল হিসেবে পরিচিত রফিক উদ্দিন আহমদ। তাঁরা অধ্যক্ষ আব্দুল বাছিতকে ‘যেমনে নাচাও তেমনি নাচি’ অভিপ্রায়ে নিয়ে এসে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আজ ধ্বংস করে ফেলেছেন।

এখন এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ফলাফলের পরিবর্তে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসেব সহসাই দামী হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের চারপাশ ঘিরে দোকান কোঠা তৈরি করে ব্যবসার পরিধি বিস্তার ঘটেছে। দোকান কোঠা বানানো নিয়েও ‘রাজনীতি’ করেন সে সময়ের গভর্ণিং বডির সভাপতি আহমদ জুবায়ের লিটন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান গেটের পাশ কেটে মানে টিলা ও গাছ কেটে দোকান কোঠা বানানো হয়। সে সময় এই টিলা কাটার প্রতিবাদ করে লেখালেখি করলে আহমদ জুবায়ের লিটন তাঁর পোষ্য চাঁদাবাজদের আমা’দে’র বিরুদ্ধে মাঠে নামান।

ক’মাস আগেও প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠের একটা অংশ কেটে দোকান কোঠা বানানো হয়েছে।

সবশেষ ঘটনা দিয়ে শুরু করি- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তবারক হোসেইনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টি নন্দন ‘তবারক হোসেইন-শামসুন্নাহার গ্রন্থাগার’র সামনে মাস খানেক আগে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হাফ ওয়াল নির্মাণ করে সীমানা নির্ধারণ করে রেখেছেন। এখানে না-কি তিনি ‘ফুল বাগান’ করবেন। অথচ এই ওয়াল নির্মাণের ফলে নির্মিত দৃষ্টি নন্দন গ্রন্থাগারের পুরো সৌন্দর্যটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে গ্রন্থাগারের নাম ফলকটাই আড়াল হয়ে গেছে। শুধু কী তাই? অধ্যক্ষ এ ব্যাপারে তবারক হোসেইনের সাথে কথা বলা তো দূরের কথা, জানেন না গভর্ণিং বডির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুন্দরও!

এমন কী কথিত চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদও বিষয়টি জানেন না বলে শুনেছি! কী নিয়ে না-কি অধ্যক্ষের সাথে রফিক উদ্দিন আহমদের ‘দ্বন্দ্ব’ চলছে! কী জানি! ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে হবে হয়তো! ‘মধু’র ভাগ না পেলে তাঁর মাথা ঠিক থাকে না…

অন্যদিকে জনাব বাছিত গ্রন্থাগার নির্মাণের শুরু থেকেই  বিরোধীতা করে আসছিলেন। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন- এই লাইব্রেরির কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই। এরচেয়ে ‘হলরুম’ করে দিলে ভালো হতো। এমনকি শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পড়ার সময় পায় না, আউট বই কখন পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অথচ একটা সময় অধ্যক্ষকে নিয়ে আহমদ জুবায়ের লিটন আর রফিক উদ্দিন আহমদ শাহবাজপুর বাজারে প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে আমা’দে’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন করিয়েছিলেন। দেলোয়ার গংদের কথা উল্লেখ করে শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রে জিডি করিয়েছিলেন! অধ্যক্ষকে নাচিয়ে শাহবাজপুরে ভুয়া ডাক্তার মেঘনাথসহ অন্যান্যদের কাছে চাঁদা তুলে আহমদ জুবায়ের লিটন প্রতিষ্ঠনের সাবেক প্রধান শিক্ষক আছদ্দর আলীর জন্মদিন পালন করেছেন। এমনকি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠানের একটি ভবনের নামকরণও করেছেন। এই নামকরণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ।

আর আজ এই অযোগ্য অধ্যক্ষ দুই ‘কুশীলব’র মাথা চড়ে বসে আছেন!

অধ্যক্ষ দিনের পর দিন অনিয়ম দুর্নীতি করে গেলেও তাঁরা ‘টো’ শব্দটি পর্যন্ত করেননি! কারণ অধ্যক্ষ আব্দুল বাছিত আওয়ামী লীগের অন্ধ চাটুকার! তাঁর সময়ে লিটন-রফিকের প্রত্যক্ষ মদদে এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের দিয়ে নোংরা রাজনীতি ও গ্রুপিং শুরু হয়েছে! ছাত্ররা শিক্ষকের পোশাক ধরে টানাটানি করেছে! স্বয়ং অধ্যক্ষকে ছাত্ররা বাছিত ভাই বলে ডেকে ‘সম্মান’ দেখিয়েছে! অফিসবাজারেও এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়!

এর আগেও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আব্দুল বাছিতের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণে বাড়তি ফি নেয়ার অভিযোগ উঠে। এটা নিয়ে আমরা লেখালেখি করি। পরে অভিভাবকের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তদন্ত সাপেক্ষে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে ১২০০ শত না ১৩০০ শত টাকা (ঠিক মনে নেই) করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেই শুরু।

এরপর প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষী গাছগুলো কেটে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা সেটার বিরোধীতা করে লেখালেখি করি। পরে তাঁরা সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
এরপর স্কুল টিলার নিচে খেলার মাঠে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়। ছেলেরা খেলতে পারে না। এটা নিয়ে আমরা লেখালেখি করি। কাঁটাতারের বেড়া তুলে দেওয়া হয়।
পরের ঘটনা হলো- এক অভিভাবক সদস্যের নাম সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন অধ্যক্ষ। এটা নিয়েও লেখালেখি হয়। ভুল স্বীকার করে অধ্যক্ষ নাম তালিকাভুক্ত করতে বাধ্য হন।

সম্পাদক, লাতু এক্সপ্রেস।