বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৯০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ



বিজ্ঞাপন

লাতু ডেস্ক:: সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ছয় দিন ধরে বন্যার পানিতে প্লাবিত থাকায় দুই জেলায় ৯ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। সিলেটে দেড় লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন আছেন। সুনামগঞ্জে ৫০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

বানভাসি মানুষ বলছেন, সিলেটে বন্যাদুর্গত অনেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছেন না। চাল, ডাল ও তেল না থাকায় অনেকের বাড়িতে রান্না বন্ধ আছে। ইঞ্জিননৌকার শব্দ শুনলেই তাঁরা ত্রাণের আশায় ছুটে আসছেন। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক ঘরবাড়িতে এখনো বুক ও গলাসমান পানি।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, বন্যাকবলিত হওয়ায় সিলেট জেলার ছয় শতাধিক বিদ্যালয়ে গতকাল থেকে পাঠদান বন্ধ ছিল। আজ থেকে চার দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি। ডুবে গেছে নগর ও জেলার ৫৩২ কিলোমিটার সড়ক। বন্যার্ত মানুষের চিকিৎসার জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে ১৪০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধে৵ ত্রাণ বিতরণ করেন।

এদিকে যুক্তরাজ্য সফর শেষে ১৩ দিন পর দেশে ফিরে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার নগরের বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন। সন্ধ্যা সাতটায় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। সেখানে বন্যাকবলিত মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার সুনিশ্চিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আগে বিকেলে তিনি করপোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিপাকে পড়া মানুষজন যেন খাবার ও পানির সংকটে না পড়েন, সেটিই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখছি। এ ছাড়া যেন পানিবাহিত রোগ না ছড়ায়, সে জন্য চিকিৎসক দল কাজ করছে।’

বেলা একটার দিকে জেলা বিএনপি নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছে, সরকারের পক্ষ থেকে সিলেটে যে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে না বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। দুদিন ধরে অনেকে না খেয়ে আছেন। এমন অবস্থায় গত বুধবার একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য গিয়ে কেবল ফটোসেশন করে তাঁদের দায়িত্ব শেষ করেছেন। অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে সিলেটের মানুষ। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এদিকে সুনামগঞ্জে গত বৃহস্পতিবার সকালে ও বুধবার রাতে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের বিপুল পানি মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। জেলার দুটি উপজেলায় ১০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার পানিতে জেলার তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

বন্যাকবলিত উপজেলার মধ্যে ছাতক ও দোয়ারাবাজার বেশি আক্রান্ত। এসব উপজেলায় হাজারো মানুষ পানিবন্দী। ছাতক শহর থেকে গোবিন্দগঞ্জ হয়ে সিলেটে যাতায়াত করেন ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষ। বন্যার পানিতে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের হাসনাবাদসহ কয়েকটি স্থান প্লাবিত হওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

ছাতকের নোয়ারাই গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবর (৪৫) বলেন, ‘চার দিন ধরে পানিবন্দী। বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছে। ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। ঘরে খানিও নাই। পরিবার নিয়া বড় কষ্টে আছি।’

বন্যায় বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৫০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছচাষিরা।

দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের বাসিন্দা মাছচাষি নুরুল ইসলাম জানান, তাঁর খামারের তিনটি পুকুরের মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। বন্যায় তাঁর অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জেলা মৎস৵ কর্মকর্তা সুনীল মণ্ডল বলেন, ‘ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকাতেও মাছচাষিদের পুকুর আছে। এখনো আমরা ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাইনি।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ৩০ মেট্রিক টন চাল, সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণসহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।