সোমবার, ২৩ মে ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



বিয়ানীবাজারে বিএনপি’র কমিটি, ভাগবাটোয়ারা



বিজ্ঞাপন

লাতু ডেস্ক:: হাইকমান্ডের নির্দেশ পালন হলো না বিয়ানীবাজার বিএনপিতে। হলো না কাউন্সিল। ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়া হয়েছে পদবি। এতে বাদ পড়েছেন দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা। এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে পাল্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিয়ানীবাজারে মুখোমুখি অবস্থায় দু’টি কমিটির নেতারা। বিরাজ করছে উত্তেজনা। বিয়ানীবাজার বিএনপি’র সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক আহমদের কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০২০ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর।

নতুন কমিটির আহ্বায়ক করা হয় পূর্বের কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম খানকে। এরপর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন বিএনপি’র কাউন্সিল নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। জেলার কয়েকজন সিনিয়র নেতা ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠনে হস্তক্ষেপ করেন। এতে করে স্থানীয় বিএনপিতে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। এই অবস্থায় জেলা সম্মেলন ও কাউন্সিলকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিয়ানীবাজার বিএনপি’র কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। উপজেলার নেতারা জানিয়েছেন, ১৭ই মার্চ সম্মেলন ও কাউন্সিল ছাড়াই বিয়ানীবাজার বিএনপি’র কমিটি ঘোষণা করা হয়। তার আগের দিন গুটিকয়েক কাউন্সিলরকে সিলেটে ডেকে নিয়ে আসেন সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নেতা। তারা সম্মেলন ও কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি গঠনের আহ্বান জানালে ওই সময় উপস্থিত থাকা কাউন্সিলরা মত দেন। এরপর জেলা আহ্বায়ক গত ১৭ই মার্চ বিয়ানীবাজারে সম্মেলনে যান। বিএনপি নেতারা জানান, জেলা আহ্বায়কের নির্দেশে একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু জেলার আহ্বায়কসহ সিনিয়র নেতারা সেখানে না গিয়ে তারা স্থানীয় কসবা এলাকার একটি বাড়িতে ৭০-৮০ জন কর্মীর উপস্থিতিতে সম্মেলন ও কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি ঘোষণা দিয়ে আসেন। কমিটির সভাপতি করা হয় এডভোকেট আহমদ রেজাকে ও সাধারণ সম্পাদক হন সরোয়ার হোসেন। ওই কমিটি ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিয়ানীবাজার বিএনপিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেশিরভাগ বিএনপি নেতা এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিন তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। পরে তারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলী হাসানকে সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম সাইফুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেন। এ কমিটিও পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। পাল্টা কমিটির সভাপতি আলী হাসান নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, কথা ছিল কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হবে। কিন্তু সেটি না করে কেন্দ্রের নির্দেশের দোহাই দিয়ে একটি বাড়িতে বসে ঘোষণা দিয়ে একটি কমিটি চাপিয়ে দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত বিয়ানীবাজারের বেশিরভাগ ত্যাগী নেতারাই মানেননি। এ কারণে তারা কমিটি ঘোষণা করেছেন। এবং তাদের ঘোষিত কমিটিই বিয়ানীবাজার বিএনপির তৃণমূলের ঘোষিত মূল কমিটি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে জেলা আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার নিজেও জানিয়েছেন, জেলার ১৮টি ইউনিটের মধ্যে কেবল বিয়ানীবাজারেই কাউন্সিল ছাড়া কেন্দ্রের নির্দেশে কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এটি জেলা কমিটি থেকে ঘোষণা দেয়া হয়নি। কেন্দ্র যা বলেছে তাই করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল জানিয়েছেন, কাউন্সিলরদের মতামত না নিয়ে মনগড়া ইউনিয়ন বিএনপি কমিটি গঠনের মাধ্যমে গঠন করা বিতর্কিত উপজেলা কমিটি বাতিল করতে হবে। হাইকমান্ডের নির্দেশ হলো কাউন্সিল হবে; কিন্তু বিয়ানীবাজারে সেটি হয়নি। এ কারণে দলের দীর্ঘ দিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও কারাবরণকারী নেতারা বাদ পড়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। জেলা কাউন্সিলের আগেই এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।