সোমবার, ২৩ মে ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



রুশ সৈন্যরা এখন কিয়েভে, তুমুল লড়াই



বিজ্ঞাপন

দেশ ডেস্ক:: পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদান ঠেকাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া আগ্রাসনের দ্বিতীয় দিনে রাশিয়ার সৈন্যরা কিয়েভে পৌঁছেছে। শুক্রবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক টুইট বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, রুশ সৈন্যরা এখন কিয়েভে। তবে ইউক্রেনের সৈন্যরা রুশ দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তুমুল লড়াই গড়ে তুলেছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, শত্রুরা এখন কিয়েভের ওবোলোন জেলায় পৌঁছেছে। রাজধানী কিয়েভের সংসদ ভবন এলাকা থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ওবোলোন শহর।

দেশটির কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের পাল্টা লড়াইয়ের জন্য মলোটভ ককটেল তৈরি করতে উৎসাহ এবং অন্যদের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। টুইটে শান্তিকামী বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বন এবং বাড়ি না ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, আমরা নাগরিকদের সামরিক যান চলাচলের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। মটোলভ ককটেল তৈরি করুন, দখলদারদের প্রতিহত করুন।

বিবিসির প্রতিনিধিরা শুক্রবার সকালের দিকে কিয়েভে গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই মুহূর্তে গোলাগুলি কেন তা জানা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা এখন প্রকট বিস্ফোরণ শুনতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে, রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠের ডাইমার এবং ইভানকিভ শহরে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে। সেখানে রাশিয়ার বেশ কিছু সাঁজোয়া যান অগ্রসর হতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পেইজে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, রাজধানীর উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। রুশ সৈন্যদের কিয়েভে প্রবেশ ঠেকাতে উত্তরপশ্চিমের টেটেরিভ নদীর সীমান্ত এলাকার একটি সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে ইউক্রেনের সৈন্যরা।

কিয়েভের সড়কে ঘুরছে রুশ ট্যাংক

বিবিসি বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, কিয়েভের উত্তরের একেবারে কাছের জেলা ওবোলোনের সড়কে রুশ ট্যাংক চলাচল করছে।

রুশ সৈন্যদের কিয়েভে টহলের ভিডিও স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাড়ি থেকে ধারণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিবিসিও ভিডিওগুলো ওবোলোনে ধারণ করা বলে নিশ্চিত হয়েছে।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের সীমান্তে দেড় লাখের বেশি সৈন্য সমাবেশ রেখে দেশটির ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করে রাশিয়া; ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদান ঠেকাতে রাশিয়ার এই চাপ গত সোমবার চূড়ান্ত রূপ পায়। ওইদিন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের দু’টি অঞ্চল দনেৎস্ক এবং লুহানস্ককে স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়ে পরের দিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করতে সৈন্যদের নির্দেশ দেন।

এরপর ইউক্রেনের তিন দিক থেকে হাজার হাজার সৈন্য ইউক্রেনে প্রবেশ করে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা এবং অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ, গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই ঐতিহাসিক চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দখল করে নেয় রাশিয়া। এখন দেশটির রাজধানী কিয়েভে ঢুকে পড়েছে রুশ সৈন্য, সেখানে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের সঙ্গে তাদের তুমুল লড়াই চলছে।

‘ইউক্রেনে রাশিয়ার ৪৫০ সৈন্য নিহত’

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে শুরু হওয়া বিশেষ সামরিক অভিযানে রাশিয়ার অন্তত ৪৫০ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার গোয়েন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি রেডিও ফোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস।

একই সঙ্গে রাশিয়া প্রথম দিন ইউক্রেনের তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনীয়দের লড়াইয়ের কারণে রাশিয়া ব্যর্থ হয়েছে।

বেন ওয়ালেস বলেছেন, এই ব্যর্থতার কারণ পুতিনের অহংকারী চিন্তা-ভাবনা। তারা মনে করেছিলেন যে, পুতিন একজন মুক্তিদাতা। ইউক্রেনীয়দের প্রাণঘাতী অস্ত্রের কারণে রাশিয়া ব্যর্থ হয়েছে। কারণ এসব অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ট্যাংক এবং বিমানের সঙ্গে লড়াই করেছেন ইউক্রেনীয়রা।

ব্রিটিশ এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনে ৪৫০ সৈন্য হারিয়েছে। রাজধানী কিয়েভের একেবারে কাছে বিমানবন্দর দখল করতেও ব্যর্থ হয়েছে রুশ এলিট স্পেটসনাজ বাহিনী। সূত্র : ঢাকাপোস্ট