সোমবার, ২৩ মে ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



বড়লেখায় মালিকানা জায়গায় সরকারি ঘর, জেলা প্রশাসকসহ তিন কর্মকর্তাকে নোটিশ!



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মামদনগর মৌজায় মালিকানাধীন জায়গায় ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় জায়গার মূল মালিক দাবিদার উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালামসহ ১৫ ব্যক্তি গত রোববার (৯ জানুয়ারি) মৌলভীবাজারের যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে স্বত্ব মামলা করেছেন।

মামলায় মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক, বড়লেখার সহকারী কমিশনার ভূমি, বড়লেখা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা, বড়লেখা উপজেলার গ্রামতলা গ্রামের বেঞ্জামিন খাসিয়া ও মোহাম্মদনগর গ্রামের আব্দুল খালেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (১০ জানুয়ারি) আদালত থেকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক, বড়লেখার সহকারী কমিশনার ভূমি ও বড়লেখা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন বর্ণিত ভূমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করা হবে না এই মর্মে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

এদিকে জায়গার মূল মালিক দাবিদার আবুল কালামসহ ১৫ ব্যক্তির মামলা ও আপত্তি উপেক্ষা করে ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। এ অবস্থায় নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের আতঙ্কে রয়েছে পরিবারগুলো। তারা মানবিকভাবে বিষয়টি দেখার জন্য প্রশাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মামদনগর মৌজার এসএ দাগ নম্বর ১৪৮৬ ও আরএস দাগ নম্বর ২১৪৩ এ ২.২৫ একর জায়গা মৌরসী স্বত্ব হিসেবে মোহাম্মদনগর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম ও তার স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছেন। সম্প্রতি ওই জায়গায় ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করেন ভূমি অফিসের লোকজন। এসময় আবুল কালাম গং জায়গাটি তাদের মৌরসী স্বত্বের দাবি করে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে সময় চান। কিন্তু তারা সময় না দিয়ে দ্রæত ওই জায়গায় ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এই অবস্থায় গত রোববার (৯ জানুয়ারি) মৌলভীবাজারের যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে স্বত্ব মামলা করেছেন জায়গার মূল মালিক দাবিদার আবুল কালামসহ ১৫ ব্যক্তি।

জায়গার মূল মালিক দাবিদারদের মধ্যে আবুল কালাম ও আমিরুন নেছা বলেন, ‘আমাদের মৌরসী জায়গায় ঘর নির্মাণের জন্য প্রশাসনের লোকজন আসলে তাদেরকে আমরা জানাই ওই জায়গা আমাদের মৌরসী। তারা জানান ওই জায়গা খাস হয়ে গেছে। আমরা তাদের কাছে কিছুদিন সময় চেয়েছি। কিন্তু তারা সময় দেননি। টিলার উপরের জায়গায় ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন। আমরা আদালতে মামলা দিয়েছি। ওই জায়গায় ঘর হলে আমাদেরকেই উল্টো ভূমিহীন হতে হবে। মানবিক কারণে আমাদের জায়গায় ঘর নির্মাণ না করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই। ’

মোহাম্মদনগর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী বলেন, ‘যে জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে ওই জায়গাটি মালিক দাবিদারদের পূর্বরুষরা ক্রয় করেছিলেন। গ্রামের সহজ সরল মানুষ তারা জায়গা জমির এতো কিছু বুঝেন না। এখন এই জায়গায় ঘর হলে তাদের তো ভূমিহীন হতে হবে। তাদের নিজেদেরই তো আর কোনো ভূমি নেই।’

এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ওই জায়গায় রেকর্ডীয় মালিক যে ছিল (এসএ) তার এক খতিয়ানে ৯০ একর জমি ছিল। তৎকালীন সময়ে (১৯৭২-১৯৮৪) পর্যন্ত একজন ব্যক্তি ১০০ বিঘার উপর জমি রাখতে পারতেন না। সে ক্ষেত্রে ওই মালিকের সকল জমি সরকারের কাছে হস্তান্তর হয়েছে। যা সমর্পণকৃত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয় এসএতে। পরবর্তীতে আরএস রেকর্ডেও খাস খতিয়ানভুক্ত হিসেবে অদ্য পর্যন্ত বিদ্যমান।’তিনি আরও বলেন, ‘জায়গার মালিক দাবি করে মামলার কথা শুনেছি। আদালতের নোটিশ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করব। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’