বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



ভোর থেকে রাত চা স্টলেই সময় কাটে নূরজাহানের



বিজ্ঞাপন

সাইফুল্লাহ হাসান :: একদিকে মুয়াজ্জিন মসজিদে ফজরের আজান দিচ্ছেন, অন্যদিকে চায়ের স্টল খুলতে ব্যস্ত নূরজাহান বেগম। ভোর থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চা স্টলেই সময় কাটে তার।

মৌলভীবাজার পৌর শহরের বেড়ি লেকের পাশে দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন নূরজাহান বেগম। তিনি জানান, তার বয়স এখন ৮০। এই চা স্টলই শেষ ভরসা ১৯ বছর আগে স্বামী হারানো নূরজাহানের। এই শেষ বয়সে এসে ৯ সদস্যের পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে তাকে।

নূরজাহান বেগম বলেন, ছেলে পেশায় বাবুর্চি কিন্তু অসুস্থ থাকায় কাজ করতে পারে না। শহরের বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল সব কিছু আমার ছেলে একা পারছিলনা। তাই ছেলেকে পরিবার চালাতে কিছু সাহায্য করতেই এই চায়ের দোকান খুলেছি।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমার ছেলের বড় একটি অপারেশন হয়েছে। ছেলে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে এখন আমার পরিবারে ৯ সদস্য। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। শেষ বয়সে নিজের বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার কথা ছিল। সেই বয়সে চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবারকে সাহায্য করতে হচ্ছে। পেটের দায়ে এসে দোকানে সময় দিতে হচ্ছে।

নূরজাহান বেগম মৌলভীবাজার পৌর শহরের কাজিরগাঁও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তার বাপের বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর এলাকার। পরিবার নিয়ে শহরের কাজিরগাঁও তিনি এ ভাড়া বাসায় থাকেন।

নূরজাহান বেগম বলেন, প্রতিদিন সকালে ফজর নামাজ পরে এসেই দোকান খুলি। আর রাত ৮ টায় দোকান বন্ধ করি। প্রতিদিন ৪/৫শ টাকার মতো বিক্রি হয়। এরমাঝে চা পাতা, চিনি, দুধ আনতে হয়। বেকারির জিনিসগুলো সকালে রেখে সারাদিন বিক্রি করে সন্ধ্যায় টাকা দেই।

তিনি বলেন, এই জায়গায় যে চায়ের দোকান দেই, পৌরসভা আমায় কিছু বলে না। তাদেরকে কোনো টাকা দিতে হয়না। মেয়র আসলে আমাকে সব সময় এখানে দেখেন কিন্তু কিছু বলেননি।

নূরজাহান বেগমের ছেলে জহির মিয়া বলেন, আম্মা অনেক আগে থেকে দোকান চালান। আমি মাঝে মাঝে সাহায্য করি। আমার বাবুর্চি কাজ সবসময় থাকে না তাই পরিবার চালাতে কষ্ট হয়।

তিনি বলেন, আমার অপারেশন হয়েছে কিছু দিন আগে যার জন্য ভালো কোন কাজও করতে পারি না। মা পরিবারের হাল ধরে আছেন এটা একটি শান্তি মিলে।

কথা হয় স্থানীয় বেকারির কর্মচারির সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪/৫ মাস থেকে ওই মহিলার ওখানে বাটার, কেক, বনসহ যাবতীয় বেকারির পণ্য দিয়ে আসছি। তিনি প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিন দিয়ে দেন। কোনো বাকি টাকা রাখেন না। লেনদেনে কোনো সমস্যা হয় না।

মৌলভীবাজার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফয়সল আহমদ বলেন, আপনার মাধ্যমে মহিলার কথা জানলাম। ওই বৃদ্ধ মহিলাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবো।