বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



সিলেটের ভোটে ফ্যাক্টর বিএনপি’র স্বতন্ত্র প্রার্থীরা



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: ঘোষণা দিয়ে ইউনিয়ন নির্বাচনে নেই বিএনপি। কিন্তু মার্কা না থাকলেও মাঠে সরব বিএনপি নেতারা। স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। দ্বিতীয় ধাপে সিলেটের বালাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ ও সদর উপজেলায় বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য শরিক দলের নেতারা ভোটের মাঠে চমক দেখিয়েছেন। এ কারণে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে বেড়েছে প্রার্থী সংখ্যা। এবার সিলেটের তিন উপজেলা গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও দক্ষিণ সুরমার ১৬ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রায় সবক’টিতেই বিএনপি নেতারা ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। কোনো কোনো ইউনিয়নে রয়েছেন একাধিক প্রার্থীও। এ কারণে সিলেটে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতারা।

কারণ তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পিছু ছাড়ছেন না বিদ্রোহীরা। এ কারণে ভোট ভাগাভাগিতে জয় ঘরে তুলতে বিএনপি’র নেতারা ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন নির্বাচনে সিলেটের তিনটি উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ, সদর ও বালাগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে; ১৫টির মতো দুই বিদ্রোহী সহ আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৮টি ইউনিয়নে জয়। আর জামায়াত, খেলাফত সহ ৭টিতে জয় হয়েছে বিএনপি’র। ফলে স্বতন্ত্র ব্যানারে থাকা বিএনপি কিংবা বিরোধী বলয়ের প্রার্থীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। এ কারণে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে এসে আরও বেশি প্রার্থী হয়েছেন বিরোধী বলয় থেকে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভোটের মাঠে প্রচারণায় গতি বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। জেলা, উপজেলার নেতারা প্রতিদিনই ছুটছেন এক ইউনিয়ন থেকে আরেক ইউনিয়নে। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকার কারণে সিলেটের ভোট নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশ্ন উঠেনি। সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই বিএনপি’র প্রার্থীরা নির্বাচনে সক্রিয় রয়েছেন। দক্ষিণ সুরমায়ও রয়েছেন একাধিক প্রার্থী।

মাঠ পর্যায়ে জয় কেড়ে নিতে প্রচারণায় গতি বাড়িয়েছেন এসব প্রার্থীরা। এর মধ্যে জৈন্তাপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বিএনপি’র ১০ নেতা ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এই উপজেলায় অনেকটা প্রকাশ্যেই বিএনপি’র নেতারা মাঠে রয়েছেন। প্রার্থী তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, গোয়াইনঘাটে রুস্তমপুর ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন; বিএনপি নেতা শাহাব উদ্দিন শিহাব ও আবুল কালাম আজাদ, ফতেহপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মিনহাজ উদ্দিন। লেঙ্গুরা ইউনিয়নে বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া সাত্তার রয়েছেন শক্তিশালী অবস্থানে। নন্দিরগাঁও ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ মামুন ও তোয়াকুল ইউনিয়নে বিএনপি নেতা খালেদ আহমদ রয়েছেন ভোটারদের আলোচনায়। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ৫টি ইউনিয়নে এবার নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেট নগরঘেঁষা সিলাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি নেতা আত্তর আলী ও ফয়জুল হক প্রার্থী হয়েছেন। জালালপুর ইউনিয়নে জামায়াত নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান মাওলানা সুলাইমান হোসেন এবারো প্রার্থী হয়েছেন।

লালাবাজার ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান শিকতা, মোগলাবাজার ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি নেতা ময়নুল ইসলাম মঞ্জুরও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল আহাদ ও বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনও প্রার্থী হয়েছেন। চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি’র একাধিক নেতা ভোটের মাঠে সক্রিয়। বিএনপি নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন বিলাল ও বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন প্রার্থী হয়েছেন। দরবস্ত ইউনিয়নে বিএনপি নেতা বাহারুল ইসলাম বাহার এবারো জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান।

এ ছাড়া, বিএনপি নেতা খায়রুল কবির ও জমিয়ত নেতা মাওলানা আজহার উদ্দিনও প্রার্থী হয়েছেন। ফতেহপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ ভোটের মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। চিকনাগুল ইউনিয়নে বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান এবিএম জাকারিয়া রয়েছেন আলোচনায়। ভোটের মাঠে বিএনপি নেতারা প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি দলীয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার। তিনি বলেন, বিএনপি এই নির্বাচনে নেই সবাই জানেন। কেউ যদি এলাকাভিত্তিক সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হয় সেটি তার ব্যাপার। আবার অনেকেই বর্তমান চেয়ারম্যান থাকায় প্রার্থী হয়েছেন। তারা ধানের শীষ প্রতীক নয়, স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাদের সঙ্গে দলের পদবিধারীরাও নেই। ফলে যারা প্রার্থী হয়েছেন সেটি একান্ত তাদের সিদ্ধান্ত। বিএনপি’র এতে সম্পৃক্ততা কিংবা অংশগ্রহণ কোনোটাই নেই।