বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



সিলেট বিভাগের ৪৪ ইউনিয়নে বিজয়ী হলেন যারা…



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সিলেটের বিভাগের ৪৪টি ইউনিয়নে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে চলে টানা ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে ছিলো ভোটারদের উপচেপড়া ভিড়। এর মধ্যে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়।

ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানা যায়, সিলেটের ১৫টির মধ্যে ৬টিতে আওয়ামী লীগ, দু’টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ৪টিতে স্বতন্ত্রের ব্যানারে বিএনপি, ১টিতে জামায়াত ও ১টিতে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

সিলেট সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মোগলগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান হিরণ মিয়া, কান্দিগাঁওয়ে জামায়াত নেতা আবদুল মনাফ, জালালাবাদে আওয়ামী লীগের ওবায়দুল্লাহ ইসহাক ও হাটখোলায় খেলাফত মজলিসের মাওলানা কে এম রফিকুজ্জামান বিজয়ী হয়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ইসলামপূর পূর্ব ইউনিয়নে স্বতন্ত্রের ব্যানারে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন আলম, তেলিখালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুল ওয়াদুদ আলফু, ইছাকলসে বিএনপি সমর্থক সাজ্জাদুর রহমান, উত্তর রণিখাইয়ে আওয়ামীলীগের ফয়জুর রহমান ও দক্ষিণ রণিখাইয়ে আওয়ামী লীগের ইকবাল হোসেন এমাদ বিজয়ী হয়েছেন।

বালাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে স্বতন্ত্রের ব্যানারে বিএনপি নেতা মো. আব্দুল মুনিম, পূর্ব গৌরীপুরে বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব, পশ্চিম গৌরিপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুর রহমান মাখন, বোয়ালজুড়ে আওয়ামী লীগের আনহার মিয়া, দেওয়ানবাজারে বিএনপির নাজমুল আলম ও পূর্ব পৈলনপুরে আওয়ামী লীগের শিহাব উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন।

সুনামগঞ্জের ছাতক :
সুনামগঞ্জের ছাতকে দশটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন চারজন প্রার্থী। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তিনজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনজন বিজয়ী হয়েছেন।

উপজেলার ছৈলা আফজালাবাদ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে গয়াছ আহমদ, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাওঁ ইউনিয়নে সুন্দর আলী, কালারুকা ইউনিয়নে অদুদ আলম এবং উত্তর খুরমা ইউনিয়নে বিলাল আহমদ বিজয়ী হয়েছেন।

ছাতক সদর ইউনিয়নে সাইফুল ইসলাম (আনারস) প্রতীক, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়নাল আবেদীন (টেলিফোন) প্রতীক নিয়ে এবং জাউয়া বাজার ইউনিয়নে আব্দুল হক (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে বিজয়ী হয়েছেন।

এছাড়া দোলারবাজার ইউনিয়নে নুরুল আলম (চশমা), চরমহল্লা ইউনিয়নে আবুল হাসনাত (মোটরসাইকেল) এবং সুফি আলম সোহেল (টেলিফোন) প্রতিক নিয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার :
দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন- ১. বাংলাবাজারে (আ.লীগের বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী এম আবুল হোসেন (চশমা), তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি (আ.লীগের বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন রানা (ঘোড়া), ২ নং নরসিংপুরে আ.লীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (বিএনপিপন্থি)স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল হক নমু (চশমা), ৩ নং দোয়ারা সদরে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হামিদ, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (বিএনপিপন্থি) স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল বারী (আনারস), ৪ নং মান্নারগাঁওয়ে (বিএনপিপন্থি) স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজ্জত আলী (মোটরসাইকেল), তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একই দলের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ (আনারস), ৫ নং পান্ডারগাঁওয়ে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহিদ, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (বিএনপিপন্থি) স্বতন্ত্র প্রার্থী অলিউর রহমান (মোটরসাইকেল), ৬ নং দোহালিয়ায় (আ.লীগের বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীমুল ইসলাম শামীম (আনারস), তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (আ.লীগের বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর মিয়া (মোটরসাইকেল), ৭ নং লক্ষীপুরে আ.লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী জহিরুল ইসলাম (মোটরসাইকেল), তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (আ.লীগের বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আমিরুল হক (চশমা), ৮ নং বোগলাবাজারে আ.লীগ মনোনীত মিলন খান, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (বিএনপিপন্থি) স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল (আনারস) এবং ৯ নং সুরমা ইউনিয়নে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী এম এ হালিম বীর প্রতীক, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (বিএনপিপন্থি) স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুন অর রশিদ (মোটরসাইকেল)।

মৌলভীবাজারের জুড়ী :
জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র (বিএনপি) মাছুম রেজা ঘোড়া প্রতীকে ৯৪৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান আনারস প্রতীকে ৮০১০ ভোট পেয়েছেন। সাগরনাল ইউনিয়নে নৌকার প্রতীকে মোঃ আব্দুল নুর ৭১৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম বতর্মান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র (বিএনপি) এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী (ঘোড়া) ৫২২৭ ভোট। পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী আনফর আলী (ঘোড়া) ৪৩৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের শ্রীকান্ত দাস (নৌকা) ৩৯৩৮ ভোট পেয়েছেন। পূর্বজুড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী রুয়েল উদ্দিন (ঘোড়া) ৪৭৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী সালেহ উদ্দিন আহমদ (আনারস) ৩০৮৮ ভোট পেয়েছেন। গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (বিএনপি) মোঃ আব্দুল কাইয়ুম (ঘোড়া) ৫৪৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের শাহাব উদ্দিন আহমদ (নৌকা) পেয়েছেন ৩৫০৩ ভোট।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ :
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ৫টি ইউনিয়নের ৩টিতে চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। এছাড়া একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও অপর একটি ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে।

১নং আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ মোবারুল হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে ২০৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ স্বাধীন মিয়া পেয়েছেন ১৯২০ ভোট ও ইসমাইল মিয়া পেয়েছেন ১৭৫১ ভোট।

২নং বদলপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সুষেনজিৎ চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে ৭৮৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী নীল কমল চৌধুরী পেয়েছেন ৩৮৬৯ ভোট ও অসীম কুমার চৌধুরী পেয়েছেন ৪৪২ ভোট।

৪নং কাকাইলছেও ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া নৌকা প্রতীক নিয়ে ৯৫৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আশরাফ উদ্দিন পেয়েছেন ৬০০৩ ভোট।

৫নং শিবপাশা ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৪৩৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ নলিউর রহমান তালুকদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ তফসির মিয়া পেয়েছেন ৪১৮১ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম মাহবুবুল আলম পেয়েছেন ৩০২২ ভোট, আলী আমজাদ তালুকদার পেয়েছেন ২৫৬৪ ভোট ও জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ১৮৩ ভোট।

ভোট চলাকালে সিলেটে প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলো পুলিশ, আনসার ও গ্রামপুলিশ। এছাড়াও টহলে ছিলো বিজিবি। নির্বাচনে যাতে কোনোরকমের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে প্রস্তুত ছিলো সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশ।

জানা যায়, এই নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ২ হাজার ৩০০ প্রার্থী। তন্মধ্যে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করেছেন ১৯৮ জন। ওয়ার্ড সদস্য পদে ১ হাজার ৬২০ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য পদে ৪৮২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। এ তিন পদে আরও ৭২ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও তারা শেষঅবধি সরে দাঁড়ান নির্বাচন থেকে।

ইসি সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬৮ জন, সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৫২০ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য পদে ১৫৭ জন প্রার্থী ছিলেন।

সুনামগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে ৯৩ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৭৪ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য পদে ২১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মৌলভীবাজারে ২১ জন চেয়ারম্যান, ২০২ জন সাধারণ সদস্য পদে এবং ৫২ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য পদে লড়েন। হবিগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৭২৪ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য পদে ৬০ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে ছিলেন।

এদিকে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও সিলেট সদর উপজেলার লামাগাঁও তালুকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের ৩জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ওই কেন্দ্রে প্রায় আধঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রের দুই প্রার্থীর এজেন্টের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে আতংকে মহিলা ও পুরুষ ভোটার লাইন ছেঁড়ে দিকবিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

অপরদিকে, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর জলসুখা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত: ৫০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে জলসুখা ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত এই কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুিষ্ঠত হয়। বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ভোট গণনা চলছিল। এ সময় হঠাৎ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী রোকসানা আক্তার শিখা ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়েজ আহমেদ খেলুর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এসময় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি সামাল দিতে না পারায় সেখানে র‍্যাব ও বিজিবির টিম পৌঁছায়। পরে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। সংঘর্ষকালে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্স ও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সংঘর্ষের সময় বেশ কিছু ব্যালট পেপার পুড়িয়ে ফেলা হয়। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়।