বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



এক যুগ ধরে ‘নিঃসঙ্গ কালভার্ট’ যখন গলার কাঁটা!



বিজ্ঞাপন

সাইফুল্লাহ হাসান :: কালভার্টটি দীর্ঘ এক যুগ ধরে সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। পড়ছে না মানুষের পদচিহ্ন। দীর্ঘদিন যাবত কালভার্টের উভয় পাশে মাটি না থাকায় এলাকাবাসীর কোনো উপকারে আসছে না। দেখাশোনারও যেন কেউ নেই।

কালভার্টটির অবস্থান মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বাছিরপুর এলাকার ছোট একটি খালের ওপর। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরেও তা সাধারণ মানুষের কোনো কাজে না এসে উল্টো ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। কালভার্টের দু’পাশে ওঠা-নামার ক্ষেত্রে মাটি না থাকায় কোনো ধরনের যানবাহন তো দূরের কথা সাধারণ মানুষ হেঁটেও চলাচল করতে পারছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশেপাশের প্রায় ১০০টি পরিবারের শত শত মানুষ ঝুলন্ত অবস্থায় কালভার্টের একপাশ দিয়ে অনেক কষ্ট করে পারাপার হচ্ছেন। কালভার্টটি পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে এলাকার বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুরা। ঝুঁকি নিয়ে কালভার্টটি পারাপার হতে গিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা। বর্তমানে কালভার্টটি ব্যবহার করতে না পেরে এলাকার গৃহবধূরা কালভার্টের একপাশে জ্বালানি কাঠ শুকানোর কাজে ব্যবহার করছেন।

জানা যায়, এ কালভার্টটিতে মাটি ভরাটের বিষয়ে বারবার এ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কোন ব্যবস্থা করে দেননি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

এলাকার বাসিন্দা ধনু মিয়া বলেন, কালভার্টটি নির্মাণ হওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থার বেশ উন্নয়ন হবে এমন ধারণায় আমরা বেশ আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু মাটি না থাকার করার কারণে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রায় ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। কালভার্টের এ দুর্ভোগের জন্য মসজিদ‌ ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াতে আমাদের কষ্টের যেন শেষ নেই।

তিনি বলেন, প্রতিবারই নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেন। ভোটের পর কেউ আর কেউ আমাদের খবর রাখে না।

এলাকার মিনি বেগম নামের এক গৃহবধূ জানান, কালভার্টের ওপর দিয়ে মানুষের চলাফেরা করাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বেশির ভাগ মানুষ কালভার্টের এক পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। তাই কালভার্টের ওপর লাকড়ি (জ্বালানি) বা অন্য কিছু শুকানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এটির উভয় পাশে মাটি ভরাট করে রাস্তা করে দিলে স্থানীয়দের খুবই উপকার হবে।

স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত দুই বারের ইউপি সদস্য আমির হোসেন বলেন, ২০১১ সালে প্রথম সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে সরকারের ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করি।

কালভার্ট নির্মাণের প্রায় ১২ বছরেও কেন মাটি ভরাট করেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশে পাশের মানুষ মাটি না দেওয়ায় তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

এ বিষয়ে পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাশ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আগামিতে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।