বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



শ্রীমঙ্গলে নৌকার প্রচারে ‘পোলিং-প্রিসাইডিং’ কর্মকর্তারা!



বিজ্ঞাপন

রিপন দে :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। জনসংযোগ, সভা, সমাবেশে প্রকাশ্যে নৌকার প্রার্থীর জন্য ভোট চাইছেন তারা।

এই শিক্ষকরাই ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। এ জন্য নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে তাদের ওপর বিধিনিষেধ আছে। তবে শ্রীমঙ্গলে শিক্ষকদের তা উপেক্ষা করে প্রচারে অংশ নেয়ায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

এরই মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া নির্বাচনি প্রচারের নানা ছবি ও ভিডিওতে সরকারি বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষককে দেখা গেছে।

তাদের মধ্যে উল্লেখজনক হলেন শ্রীমঙ্গল শহরের চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরপদার, উত্তর বরুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন দেব ও রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অলক পাল।

সবশেষ শুক্রবার উত্তর বরুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন দেব উপজেলার গন্ধব্যপুর এলাকায় নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে গণসংযোগ ও নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন। বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নৌকার নির্বাচনি সভায় অতিথি হিসেবে ছিলেন জহর তরপদার।

এ বিষয়ে কথা বলতে ওই তিন শিক্ষকের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ধরেননি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্য প্রার্থীরা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক।

প্রার্থী আফজল হক বলেন, ‘আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানাচ্ছি। আমরা লক্ষ করছি, শ্রীমঙ্গলের বেশ কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক প্রকাশ্যে নৌকার প্রার্থীর হয়ে ভোট চাইছেন।

‘গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করছেন, এরাই আবার নির্বাচনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। আমি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এটি সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হচ্ছে।’

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রেম সাগর হাজরা বলেন, ‘নির্বাচনে যেহেতু সরকারি চাকরিজীবীরা কারও পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারেন না, সেহেতু বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে দেখতে হবে। এভাবে সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তারা এক পক্ষের হয়ে প্রচার চালাতে পারেন না।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাফর আল সাদিক জানান, শুধু শিক্ষক নয়, নির্বাচনি প্রচারে রাষ্ট্রের কোনো সরকারি চাকরিজীবী অংশ নিতে পারবেন না। কোনো শিক্ষক যদি এমনটা করে থাকেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তপনজ্যোতি অসিম বলেন, ‘আমি একটু বাইরে আছি, তাই অভিযোগের কপি এখনও দেখিনি। ঘটনা সত্য হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রচারে অংশ নেয়া নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন বলেও জানান তিনি।