সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



বিয়ানীবাজারে আজমল হত্যা, বড়লেখার দুইজনের ফাঁসি



বিজ্ঞাপন

বিশেষ প্রতিবেদক :: সিলেটের বিয়ানীবাজারে আজমল হোসেন হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১২ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রাজজ ৩য় আদালত মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতের উপস্থিত ছিলেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গুলসা গ্রামের বিজয় কান্তির ছেলে অপুদাস ও একই উপজেলার কুতুবনগর গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে রুহেল আহমদ কালা।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন জানান, রায়ে বিচারক দাদের দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির রশিতে মৃত্যু নিশ্চিত ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। অন্য একটি ধারায় তাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।

তিনি বলেন, মামলায় অপর দুই আসামি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার শান্তিনগর গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে মো. হোসাইন আহমদ ও মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল এলাকার নলুয়ারপাড় গ্রামের আলকাছ উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিনের বয়স কম হওয়ায় শিশু আদলতে বিচারাধীন রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি সিলেটের শাহজালাল উপ শহরের বাসা থেকে নিজ বাড়ি বিয়ানীবাজারের জলঢুপ গ্রামে যান আজমল হোসেন। এলাকায় তিনি একটি মাদরাসা গড়ে তুলেছেন। মাদরাসার কাজের জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকা সঙ্গে করে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই মাদরাসার শিক্ষকরা বাড়িতে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় একটি মামলা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চারজন আসামিকে পুলিশ শনাক্ত করে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেন তদন্ত কর্মকর্তা। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে রোববার অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালত মিজানুর রহমান ভূঁইয়া এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী আলী হায়দার বলেন, রায়ের আমরা খুশি নই। আমার মক্কেল ন্যায় বিচার পাননি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।