সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



সিলেটে আমিরুলের মৃত্যু নিয়ে ‘রহস্য’



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: সিলেটে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি মেটলাইফের কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম খানের মৃত্যু নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। আমিরুলের ভাইদের সন্দেহের তীর স্ত্রী জেরিন খানের দিকে। আর মৃত্যুকেও তারা স্বাভাবিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। এ কারণে সিলেটের আদালতে মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য মামলা দায়ের করেছেন আমিরুলের ভাই এনামুল হোসেন খান। ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই এ মামলার তদন্ত শুরু করেছে। আর মামলা দায়ের করায় আমিরুলের মৃত্যু নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর নানা আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা। হবিগঞ্জের বানিয়াচং সাগরদিঘী পশ্চিমপাড় খান বাড়ির বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম খান।

সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট এলাকার সৈয়দ মুগনী তরঙ্গ ৪/৫ নং বাসার বাসিন্দাও তিনি। পরিবার নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে তারা সিলেট নগরেই স্থায়ী আভাস গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন ভাই এনামের সঙ্গে ব্যবসায় ছিলেন আমিরুল। সম্প্রতি তিনি মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। গত ৭ই জুলাই নিজ বাসায় মারা যান আমিরুল ইসলাম খান। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি মারা গিয়েছেন বলে দাবি করেন স্বজনরা। মাথায় রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রায় দেড় মাসের মাথায় ২৪শে আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন আমিরুলের বড় ভাই এনামুল হোসেন খান। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাগলা গ্রামের আজিজুর রহমানের মেয়ে জেরিন খানের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আমিরুলের। বিয়ের পর ৪-৫ বছর তাদের সংসারে সুখ ছিল।

এরপর থেকে দু’জনের মধ্যে প্রায় সময়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। জেরিন খানের দুঃসম্পর্কের আত্মীয় মৌলভী মাদানী সন্তানদের আরবি পড়াতে বাসায় যেতো। তার চলাফেরা সন্দেহজনক হওয়ার কারণে শেষে সন্তানদের আরবি পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরও মৌলভী মাদানী গৃহকর্তা আমিরুলের অনুপস্থিতিতে প্রায়ই বাসায় যাওয়া-আসা করতো। এজাহারে এনামুল উল্লেখ করেন আমিরুলের মৃত্যুর সাতদিন পূর্বে বাসায় জেরিন খানের ভগ্নিপতি ওয়াহিদের সঙ্গে জেরিনের অস্বাভাবিক আচরণ ও চলাফেরা পরিলক্ষিত হয়। এ নিয়েও আমিরুলের সঙ্গে জেরিন খানের ঝগড়া হয়েছে। এরপরও আমিরুলের অনুমতি ছাড়াই জেরিন খান বাসায় তার পিতা-মাতা, বোন ও ভগ্নিপতি ওয়াহিদ, খালাতো ভাই রব্বানীকে রেখে দেয়। তারা ৭ দিন ধরে আমিরুলের বাসায়ই ছিল। গত ৭ই জুলাই সকালে আমিরুল অসুস্থ বলে ছোট ছেলে মামলার বাদী এনামুলকে অবগত করেন।

এনামুল জানান, অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী বাসা থেকে ভাইয়ের বাসায় গিয়ে দেখেন; অসুস্থ অবস্থায় আমিরুল পড়ে আছে। কপালের কাটা দাগ থেকে রক্ত ঝরছিলো। এ সময় উপস্থিত থাকা জেরিন খানের পিতা ও অন্যরা জানান, আমিরুল মাথা ঘুরে চেয়ারে পড়ে গিয়ে কপালের কিছুটা কেটে গেছে। তৎক্ষণাতই বিষয়টি নিয়ে তাদের সন্দেহ হয়। এরপরও কথা না বাড়িয়ে ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আমিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্ত্রী জেরিন খান ও স্বজনদের কথা বিশ্বাস করে আইনি কোনো পদক্ষেপ ছাড়াই আমিরুলের মরদেহ নিজ বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নিয়ে দাফন করেন। এদিকে লাশ দাফনের পর সিলেটে ফিরলে আমিরুলের সন্তানদের তাদের সঙ্গে মিশতে না দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও দানা বাঁধে।

এজাহারে এনামুল উল্লেখ করেন- ‘আমার ভাই আমিরুল হোসেন খানকে তার স্ত্রী জেরিন খান, মাদানী, রব্বানী ও ওয়াহিদ সহ অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়েছে।’ এদিকে মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পিবিআই ইন্সপেক্টর আব্দুল আউয়াল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখন এজাহার বিশ্লেষণ করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে। তদন্তে যদি কারও সম্পৃক্ততা মিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মামলার বাদী এনামুল হোসেন খান জানিয়েছেন, ‘প্রথমে জেরিন খান ও পরিবারের লোকজনের কথায় বিশ্বাস করে আমরা আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে ভুল করেছি। পরে ঘটনার বিশ্লেষণ ও জেরিন খান এবং তার পরিবারের রহস্যময় আচরণ আমাদের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এ কারণে বিষয়টি তদন্তের জন্য মামলা দায়ের করেছি।’ তিনি জানান, ‘যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয় তাহলে দোষীদের অবশ্যই বিচার হতে হবে। সে বিবেচনায় আমরা মামলা করেছি। আশা করি, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করবেন।’ তবে মারা যাওয়া আমিরুল ইসলাম খানের স্ত্রী জেরিন খান এজাহারে দায়েরকৃত বিবরণকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সময় বাসার সবাই ঘুমে ছিলেন। চিৎকার শুনে সবাই সজাগ হন এবং দৌড়ে গিয়ে ধরাধরি করেন। তার স্বামী হার্টঅ্যাটাকে মারা গেছেন বলে দাবি করেন জেরিন খান।’