সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



ছাতক পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে নারী কাউন্সিলরের যৌন হয়রানির মামলা



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করেছেন একই পৌরসভার এক নারী কাউন্সিলর। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেনের আদালতে মামলাটি করেন তিনি। এটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত পৌর পরিষদের সভা শেষে মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ওই নারী কাউন্সিলরকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব ও যৌন হয়রানি করেছেন- এমন অভিযোগ এনে মামলা করেন ওই নারী কাউন্সিলর। প্রভাবশালী মেয়র তার সঙ্গে বৈরী আচরণ ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট ছাতক পৌর ভবনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কাউন্সিলরকে নিজের অফিসে বসতে বলেন মেয়র। এরপর অন্য কাউন্সিলরদের বিদায় দিয়ে ভুক্তভোগীর স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করেন। পরে মেয়রের কক্ষ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। এছাড়া গত পৌরসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী বিভিন্ন সময় তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। ফলে প্রায় সময় পৌরসভার বৈঠকে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়েই এ কাউন্সিলর চলে আসতেন। এ কারণে দায়িত্ব সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আমিরুল হক বলেন, ‘বিচারক অভিযোগ তদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

এদিকে পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ছাতক পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক থেকে স্থানীয় নারী কাউন্সিলর ও তার স্বামী চাঁদা নিয়েছেন মর্মে গত ১৮ আগস্ট মেয়রের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ইজিবাইক চালক আতিকুল মিয়া, নূরুল হোসেন ও বিরাজ আলী। ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত পৌর পরিষদের বিশেষ সভায় বিষয়টি উত্থাপন করলে উপস্থিত ১১ সদস্যের মধ্যে ১০ জনের সম্মতিতে ওই নারী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়। কিন্তু চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়ায় ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরিষদের আরেক সভায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পৌর পরিষদ। সেই সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগে কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় পৌরসভার পক্ষ থেকে মামলা করার সিদ্ধান্তও হয়। ২৬ আগস্ট ওই নারী কাউন্সিলর ও তার স্বামীসহ চার জনকে আসামি করে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন পৌরসভার অফিস সহায়ক দীপ্ত বণিক।

সূত্র আরও জানায়, অভিযুক্ত নারী কাউন্সিলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ ও মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর ওইদিন সভা শেষে পৌরসভা অফিসে তুলকালাম কাণ্ড ঘটান ওই নারী কাউন্সিলর এবং তার স্বজনরা। পৌর মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী দাবি করেন, ‘ওই নারী কাউন্সিলর ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে ইজিবাইক চালকদের করা চাঁদাবাজির অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার পর আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছেন। তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ ও পৌর পরিষদের সভার সিদ্ধান্তই অভিযোগের সত্য-মিথ্যা প্রমাণ করবে।’