শুক্রবার, ২৩ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



শ্রীমঙ্গলে ক্ষিপ্ত কিং কোবরার ছোবলে সাপুড়ের মৃত্যু



বিজ্ঞাপন

বিষধর কিং কোবরার ছোবলে এক সাপুড়ের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার পর একটি কালনাগিনী ও দুটি দাঁড়াশ সাপ উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। সেইসঙ্গে দুটি বিষধর কিং কোবরাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

শাহ্ অলিদুর রহমান, মৌলভীবাজার :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্ষিপ্ত কিং কোবরার ছোবলে এক সাপুড়ের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৮ জুলাই) চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা শহরের জেরিন চা বাগান এলাকায়।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানিয়েছেন, জেরিন চা বাগানের একজন নিয়মিত শ্রমিক সুমন। চা বাগানে কাজের ফাঁকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাপ ধরা ও বিভিন্ন এলাকায় সাপের খেলা দেখিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি একটি চা বাগান এলাকা থেকে বিলুপ্ত প্রজাতির বিষধর দুটি কিং কোবরা সাপ ধরেন। এ সাপ দুটি নিয়ে সাপুড়ে সুমন একাধিক স্থানে খেলা দেখাতেন। এছাড়া তার কাছে আরও দুটি দাঁড়াশ ও একটি কালনাগিনী সাপ আগে থেকেই ছিল।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, শনিবার (১৭ জুলাই) দুপুরের দিকে সাপুড়ে সুমন একটি চা বাগানের বস্তিতে সাপ নিয়ে খেলা দেখায়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, অন্য দুটি সাপ নিয়ে খেলা দেখানোর এক পর্যায়ে কিং কোবরা দুটিকে বের করে সুমন। তখন ক্ষিপ্ত বিষধর কিং কোবরা দুটির মধ্যে একটি মুখ বের করে সাপুড়েকে ছোবল মারে। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত সুমনকে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেএবং পরে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাঠানো হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রাতে সাপুড়ে সুমনের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়টি রোববার (১৮ জুলাই) বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে পৌঁছালে তাদের টনক নড়ে। অবশেষে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেরিন চা বাগান এলাকায় সাপুড়ে সুমনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার ও বিট কর্মকর্তা আমিরুজ্জামান। অভিযানের শুরুতে সুমনের স্ত্রীর কথা মতো প্রথমে দুটি দাঁড়াশ ও একটি কালনাগিনী তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

সুমনের স্ত্রী প্রথমে জানান, দাঁড়াশ সাপের ছোবলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তবে বন্যপ্রাণী বিভাগের লোকজনের সন্দেহ হলে আবার বিকেলের দিকে তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এতে কোন সুরাহা করা যায়নি। পরে বন বিভাগের কর্মীদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদে আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। তখন জানা যায়, বিষধর কিং কোবরার ছোবলে সাপুড়ে সুমন মারা যায়। আর ওই রাতেই দুটি কিং কোবরাকে মেরে চা বাগানের নির্জন স্থানে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

এদিকে, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সন্ধ্যায় চা বাগানে মাটি চাপা দেওয়া কিং কোবরা দুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। পুনরায় তাদের লাউয়াছড়ার জানকি ছড়া এলাকায় মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া দুটি দাঁড়াশ ও একটি কালনাগিনী সাপ বন্যপ্রাণী বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে।