শুক্রবার, ২৩ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে শাহবাজপুরের সুরুজা বিবির দু’চোখ ভরে ওঠে আনন্দ অশ্রুতে



বিজ্ঞাপন

আব্দুর রব :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুরে অন্যের বাড়িতে বসবাসকারী সহায়-সম্বলহীন সত্তরোর্ধ সেই বৃদ্ধা সুরুজা বিবির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি যেন কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সেমিপাকা সরকারি ঘরের দলিল হাতে পেয়ে আনন্দ অশ্রুতে তার চোখ-মুখ ভরে ওঠে। খুশিতে যেন বাকরুদ্ধ। অস্পষ্ট কন্ঠে বললেন, ‘স্বপ্নও দেখিনি কোনো দিন নিজের ঘর হবে, এখন নিজের বাড়িতে মরতে পারবো, এরচেয়ে বড় কি হতে পারে না। আল্লাহ যেন শেখ হাসিনার ভালো করেন। ধন্যবাদ জানান উপজেলা প্রশাসনকে।’

গত রোববার মুজিববর্ষ উপলক্ষে বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের ৫২ হতদরিদ্র পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের চাবি আর জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দলিল হাতে পেয়ে এমন অনুভূতি প্রকাশ করেন বৃদ্ধা সুরুজা।


সহায় সম্বলহীন সত্তরোর্ধ বৃদ্ধা সুরুজা বিবির করুণ কাহিনী নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যামে সংবাদ ছাপা হলে তা বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। সদ্য বিদায়ী ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান ওই বৃদ্ধার খোঁজ নিতে শুরু করেন। ইউএনও’র নির্দেশে ঈদের আগেই সহকারী কমিশনার (ভুমি) নূসরাত লায়লা বৃদ্ধা সুরুজার খোঁজ নিতে ছুটে যান উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের করমপুর গ্রামে। ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে তিনি বৃদ্ধাকে তুলে দেন ঈদের উপহার। কথা দেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি ভূমিতে ঘর তৈরি করে দিবেন। আর এতেই আশ্রয়স্থল হারানোর শংকা কাটে সুরুজার।

জানা গেছে, মাতৃভুমি ময়ময়নসিংহে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে দেশ স্বাধীনের আগে স্বামী আছমত আলীর সাথে বড়লেখার করমপুর গ্রামে এসেছিলেন সুরুজা বিবি। তার স্বামী ছিলেন দিনমজুর। নিজের বাড়ি না থাকায় অন্যের বাড়িতে থাকতেন। দিনমজুর স্বামীর উপার্জিত অর্থে কোনমতে চলতো সংসার। প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুতে চরম বিপাকে পড়েন সুরজা বিবি। ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে নিয়ে সুরুজা বিবির জীবন যুদ্ধ শুরু। মানুষের বাড়িতে থেকে কোনমতে কাজ করে সংসার চালাতে থাকেন। সন্তানরা বড় হয়। ইতিমধ্যে ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ২ ছেলের ছোট ছেলে থাকেন আলাদা আর বড় ছেলে রোগাক্রান্ত হয়ে ৮ বছর আগে মারা গেছেন। বড় ছেলের বিধবা বউর অভাবের সংসার তাই সুরুজা বিবি থাকেন ছোট ছেলের সংসারে। ছোট ছেলের সংসারে তার স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। পরিবারে নেই উপার্জনক্ষম কোন মানুষ। কিশোর বড় নাতি একটু আধটু কাজ করে। মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় চলে তাদের সংসার। এমন অবস্থায় অনেক সময় অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটে সুরুজা বিবি ও তার পরিবারের। অভাবের তাড়নায় ও বার্ধক্যের কারণে সুরজা বিবি ঠিকমতো চলতে পারেন না। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে। কথাও বলতে পারেননা ঠিক মতো। এরই মধ্যে আশ্রয়দাতা বাড়ি বিক্রি করে দিবেন, তাই ঈদের পরই বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছেন। এমন অবস্থায় কোথায় যাবেন, কি করবেন এমন চিন্তায় চোখে ঘুম ছিল না বৃদ্ধা সুরুজা বিবির (৭০)।


সহকারী কমিশনার (ভুমি) নূসরাত লায়লা নীরা জানান, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরই বৃদ্ধা সুরুজার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। ইউএনও স্যারের নির্দেশে রমজানের ঈদের আগে তিনি সুরুজা বিবির খোঁজ নিতে করমপুরগ্রামে যান। দুরাবস্থা দেখে কাছাকাছি এলাকায় সরকারী খাস জমি খোঁজে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঘরের চাবি ও ভূমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।