বুধবার, ২৩ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের বক্তব্যে মৌলভীবাজার তোলপাড়



বিজ্ঞাপন

ইমাদ উদ দীন :: মৌলভীবাজার জেলা শহর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার পক্ষে-বিপক্ষে রীতিমতো যুদ্ধ চলছে। মেডিকেল কলেজ প্রসঙ্গে উত্তাল মৌলভীবাজার। রোববার সম্পূরক বাজেটের উপর আলোচনায় নিজ সংসদীয় এলাকায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়ে সংসদে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক চিফ হুইপ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ। তার এই বক্তব্য জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বক্তব্যটি গত দু’দিন থেকে ‘টক অব দ্য জেলায়’- পরিণত হয়েছে। এনিয়ে সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তার ওই বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জেলা মেডিকেল কলেজ স্থাপনে প্রতিবন্ধকতার নামান্তর। মেডিকেল কলেজের দাবিতে আন্দোলনকারী ও জেলার সচেতন নাগরিকরা এমনটিই মন্তব্য করছেন। খবর: মানবজমিন।


তারা বলছেন, আগে থেকেই মেডিকেল কলেজের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পক্ষে তিনি নিজেই স্বাক্ষর দিয়েছেন। এমনকি তিনি দেশ ও প্রবাসে (যুক্তরাজ্যে) জেলা শহরে মেডিকেল কলেজের দাবিতে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন। এই দাবি বাস্তবায়নের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে একাত্মতাও জানিয়েছেন। হঠাৎ করে সংসদে তার এই দাবিতে জেলাবাসী বিস্মিত। জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকেই চলছে মৌলভীবাজার জেলা শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করার দাবিতে দেশ ও প্রবাসে সভা, সেমিনার, গোলটেবিল আলোচনা, স্মারকলিপি প্রদান, জেলাব্যাপী গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, অনশন ও হরতাল কর্মসূচি পালনসহ নানা আন্দোলনে সোচ্চার স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো।

মেডিকেল কলেজ দাবির আন্দোলনে সক্রিয় থাকা মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ চাই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ ও সচেতন নাগরিক ফোরাম (সনাফ) এর নেতৃবৃন্দ জানান জেলার ৪ এমপি, প্রয়াত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ প্রয়াত স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও অন্যান্য মন্ত্রী এই দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করে আশ্বস্ত করেছেন। চিফহুইপ আ স ম ফিরোজ এর মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন এবং প্রয়াত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আজিজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে জেলাবাসীর এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি সম্পর্কে অবগত করেছেন। তারা সকলেই আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণানুযায়ী জেলা সদরে মেডিকেল কলেজ স্থাপন হবে। তিনজন সংসদ সদস্য (সৈয়দা সায়েরা মহসীন, নেছার আহমদ ও জোহরা আলাউদ্দিন) জেলা সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করার দাবি জাতীয় সংসদে উত্থাপনও করেছেন। সেই আলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা হাসাপাতাল পরিদর্শন করে তারা পজিটিভ রিপোর্ট দিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ জানান, কোভিড-১৯ এর কারণে তাদের সক্রিয় আন্দোলন কর্মসূচি কিছুটা স্থবির হলেও তারা লিখিত ও মৌখিকভাবে নানা স্থানে উচ্চ পর্যায়ে ধরনা দিচ্ছেন।

তারা বলেন, কি কারণে জাতীয় সংসদ সদস্য হঠাৎ এমন রহস্যজনক বক্তব্য দিলেন তা বোধগম্য নয়। জাতীয় সংসদের ওই বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি তার নির্বাচনী এলাকায় নানা উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন- সন্তোসজনক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩শ’ ৫৮ একর জমি আছে। তাই সেখানে একটি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে তিনি বলেন, সেখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করলে জায়গা অধিগ্রহণ কিংবা ক্রয় করার প্রয়োজন পড়বে না। এই বক্তব্যের পর তার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা উৎফুল্ল হয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। অপরদিকে ওই বক্তব্যে হতভম্ব হয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন মেডিকেল কলেজের দাবিতে আন্দোলনরত জেলার সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দ।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জের কয়েকজন সচেতন নাগরিক তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, তার এমন বক্তব্য ও দাবি যৌক্তিক। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পেশাদারিত্ব পালন করছেন। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, এখানে ক্ষোভের কি আছে। কমলগঞ্জ কি জেলার বাহিরে। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক ফোরাম (সনাফ) এর সভাপতি আলহাজ মোয়জ্জেম হোসেন মাতুক, সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি খালেদ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি এম. মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, জেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রাণের দাবি মেডিকেল কলেজের। সেই দাবিতে নানা আন্দোলনও চলমান। এখানে বিভাজন সৃষ্টি করে বঞ্চিত হওয়া ছাড়া প্রাপ্তিতে আর কিছুই মিলবে না।


মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ চাই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের এডমিন বিশিষ্ট কমিউনিটি লিডার মকিছ মনছুর ও ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন- এমন বিভাজনমূলক বক্তব্য ও দাবি কখনই কাম্য নয়। এমপি আব্দুস শহীদ ২০১৮ সালে মৌলভীবাজারের রেস্ট ইন হোটেলে ও যুক্তরাজ্যের লন্ডন সুরমা সেন্টারে মৌলভীবাজার মেডিকেল কলেজের দাবিতে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখার পর কেন হঠাৎ এমন দাবি। তারা এক দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।