বুধবার, ২৩ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



সিলেটে ভূমিকম্পে বিদ্যালয়ে ফাটল, পরিত্যক্ত ঘোষণা



বিজ্ঞাপন

বিশেষ প্রতিবেদক :: সিলেটে সোমবার (৭ জুন) দু’দফা ভূমিকম্পে নগরের বন্দরবাজারস্থ ১৩৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজা জিসি হাই স্কুলের একটি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নামে নির্মিত ‘বদর উদ্দিন আহমদ কামরান’ ভবনে এ ফাটল দেখা দেয়। ফলে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে শিক্ষা-প্রকৌশল অধিদফতর।

ফাটলের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৮ জুন) দুপুরে শিক্ষা-প্রকৌশল অধিদফতর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল হাকিমের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পরিদর্শন শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল হাকিম বলেন, ‘প্রায় ২৮ বছর আগে তৈরি করা ওই ভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় মাত্রায় তৈরি করা হয়নি। ভূমিকম্পে ফাটল হওয়া ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রয়োজনে ভূমিকম্প প্রতিরোধক আরেকটি ভবন তৈরি করা হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘সিলেটে গত দুবছর থেকে যতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন তৈরি করা হয়েছে সেগুলো ভূমিকম্প সহনশীল মাত্রায় তৈরি করা হচ্ছে। ভূমিকম্প প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে ক্ষতি হয় তা বলা যায় না। পরিত্যক্ত ভবনের কারণে স্কুলে ক্লাসরুমের সমস্যা থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনে নতুন করে নির্মাণ করা হবে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ভবনটির প্রত্যেকটি রুমে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনের একটি অংশ দেবে গেছে কিছুটা। বিজ্ঞানাগারের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টির ফলে পলস্তারা খসে পড়েছে।

রাজা জিসি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল মুমিত বলেন, ‘১৮৮৬ সালে রাজা জিসি হাই স্কুল স্থাপিত হয়। এ বিদ্যালয়ে ২০০৬ সালে একটি ভবন নির্মিত হয়। এ সময় ওই ভবনের নিচতলা পাকাকরণ হয়। আর ২০১৭ সালের দিকে দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়। ২০১৯ সালে ভবনটির ২য় তলা হস্তান্তর করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। সোমবারের ভূমিকম্পে ওই ভবনের প্রত্যেকটি রুমে ফাটল দেখা দিয়েছে। এমনকি রুমের ভীমেও দেখা দিয়েছে ফাটল।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিজ্ঞানাগারসহ ওই ভবনটিতে ১০টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। এই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে স্কুল খুললে শিক্ষার্থীদের মাঠে বসিয়ে ক্লাস করাতে হবে।’

তিনি সরকারের কাছে বিকল্প ব্যবস্থায় একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে দেয়ার দাবি জানান।

এদিকে, ভূমিকম্পে ফাটল দেখা দেওয়ায় রাজা জিসি স্কুলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভবনটি পরিদর্শন করেছি। ভূমিকম্পে স্কুল ভবনের অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ভবনটি ভেঙে ফেলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

এই ভবনের পেছনে বড় পুকুর ছিল উল্লেখ করে মেয়র আরিফ বলেন, ‘এই স্কুলসহ নগরের ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবন ও মার্কেট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য বুধবার বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সে বৈঠকে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবন ও মার্কেটগুলো দ্রুত পরীক্ষা করার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।’


উল্লেখ্য, গত ৩০ মে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওইদিন ভোর ৪টা ৩৫ মিনিট ৭ সেকেন্ডে দুই দশমিক ৮ মাত্রার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এর আগের দিন অর্থাৎ ২৯ মে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের একদিনে চার দফা ভূ-কম্পন অনুভূত হয় সিলেটে। এর উৎপত্তিস্থল সিলেটের জৈন্তাপুর ও এর আশপাশে ছিল।

এর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে একই এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০২০ সালের এপ্রিলে সিলেট অঞ্চলে আরেকটা ভূমিকম্প হয়। এগুলো ছোট মাত্রার ভূমিকম্প ছিল।