বুধবার, ২৩ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



সমতল ভূমিতে পরিণত হচ্ছে মৌলভীবাজার: বাড়ছে ভূমিধস, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা



বিজ্ঞাপন

ছবি:  মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মোহাম্মদনগরে কেটে নেওয়া হয়েছে টিলার মাটি।

নিউজ ডেস্ক :: যেদিকেই চোখ যায়, ছোট-বড় পাহাড়। কোথাও চা-বাগান, কোথাও ফলের বাগান। কোথাও সংরক্ষিত বন। এ রকম ভূ-প্রকৃতিই মৌলভীবাজারের সৌন্দর্য। কিন্তু পাহাড়-টিলা কেটে ফেলায় দিন দিন সমতল ভূমিতে পরিণত হচ্ছে জেলা। বাড়ছে ভূমিধস, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা। এ অবস্থায় এখনই সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। খবর: প্রথম আলো

মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলাতেই কমবেশি পাহাড়-টিলা আছে। এগুলো একটা সময় বুনো গাছপালায় ভরা ছিল। ছিল বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জনবসতি গড়ে উঠেছে পাহাড়ের কোলে, টিলায় টিলায়। অব্যাহতভাবে মানুষের এই পাহাড়-টিলা দখলের কারণে অনেক বনজ গাছপালা, লতাপাতা, গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়েছে। বন্য প্রাণী বাসস্থান হারিয়ে কোনোটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কোনোটি বিলুপ্তির পথে।

প্রাণ-প্রকৃতি গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, জেলার পাহাড়-টিলার অবস্থা এতই খারাপ যে এসব পাহাড়-টিলায় হয়তো কিছু বৃক্ষজাতীয় গাছ আছে। লতানো, গুল্মজাতীয় ঝোপানো গাছ একদম কমে গেছে।


পাহাড়-টিলা সাধারণত দুর্গম এলাকা। তাই টিলা কাটার বিষয়টি জানা যায় খুব কম ক্ষেত্রেই। পরে জানাজানি হলেও কারা কাটছে, তা জানা যায় না। জানা গেলে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে। নয়তো পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মামলা করা হচ্ছে, ক্ষতিপূরণ আদায় হচ্ছে। ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার, হয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে পাহাড়-টিলা রক্ষা হবে না। ক্ষয়ক্ষতির দিক ও আইন সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, ‘জেলায় অফিস হওয়ার পর আইনের বাস্তবায়ন বেড়েছে। কিন্তু পাহাড়-টিলা প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। আমরা যখনই জানছি, অভিযান চালাচ্ছি। জরিমানা করছি, ক্ষতিপূরণ আদায় করছি। তবে পাহাড়-টিলা তো আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। এ জন্য জনসচেতনতা দরকার। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।’