সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



রিয়ালকে হারিয়ে লা লিগা চ্যাম্পিয়ন অ্যাতলেটিকো



বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা ডেস্ক: শেষটাও হলো বেশ নাটকীয়। কিন্তু তার আগেই সমর্থকরা জেনে গেছেন এবারের লা লিগার মুকুট উঠলো অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাথায়। কারণ রিয়াল ভায়াদোয়িদের মাঠে গিয়ে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও অ্যাঞ্জেল কোরেয়া এবং লুইস সুয়ারেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য জয়ই প্রয়োজন ছিল অ্যাটলেটিকোর। রিয়াল মাদ্রিদ পেছন থেকে যেভাবে ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছিল, তাতে ড্র করলেও হোঁচট খেতে হতো তাদের। কিন্তু সেই হোঁচটটা শেষ মুহূর্তে আর খেতে দিলেন না বার্সেলোনা থেকে বিতাড়িত হয়ে অ্যাটলেটিকোয় আসা লুইস সুয়ারেজ।


রিয়াল মাদ্রিদ মরিয়া হয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছে। নিজেদের মাঠে ভিয়ারিয়ালের কাছে ২০ মিনিটেই গোল হজম করার পর অনেকটা ১-০ ব্যবধানে পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়ার অপেক্ষায় ছিল যেন তারা; কিন্তু ৮৭ মিনিটে করিম বেনজেমা এবং ইনজুরি সময়ে লুকা মদরিচ গোল করে রিয়ালকেও ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

কিন্তু তাতে লাভ কিছুই হলো না। জানপ্রাণ দিয়ে লড়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেলেও অ্যাটলেটিকোর সঙ্গে ব্যবধান সেই ২ পয়েন্টেরই থেকে গেলো। লিগ শেষে অ্যাটলেটিকোর পয়েন্ট ৮৬ এবং রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৮৪। বার্সেলোনাও হারিয়েছে এইবারকে। ফলে তাদের পয়েন্ট হলো ৭৯।

শিরোপা দৌড় থেকে আগেই ছিটকে পড়েছিল বার্সেলোনা। লড়াই টিকে ছিল মাদ্রিদের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো এবং রিয়ালের। দুই পয়েন্টের ব্যবধান ছিল দুই দলের মধ্যে। রিয়াল ভায়াদোয়িদের মাঠে গিয়ে কোনোভাবে হেরে যেতো কিংবা ড্র করতো অ্যাটলেটিকো, তাহলে ভিয়ারিয়ালকে হারানোর সুবাধে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেতো রিয়াল মাদ্রিদই। কারণ, দু’দলের পয়েন্ট হয়ে যেতো সমান। তখন হেড টু হেডে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিন হতো রিয়াল।

কিন্তু সে হিসেব আর কষতে হয়নি। জিতেই চ্যাম্পিয়ন হলো অ্যাটলেটিকো। রিয়াল ভায়াদোয়িদের মাঠে খেলতে নেমে শুরুতেই দিয়েগো সিমিওনকে চমকে দিয়েছিল ভায়াদোয়িদ। দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ১৮ মিনিটেই অ্যাটলেটিকোর জালে বল জদিয়ে দেন স্বাগতিক দলের ওসকার প্লানো।

প্রথমার্ধ শেষ হয় রিয়াল ভায়াদোয়িদের ১-০ গোলে লিডে থেকেই। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর ম্যাচের ৫৭ মিনিটে অ্যাটলেটিকোকে সমতায় ফেরান অ্যাঞ্জেল কোরেয়া। ঠিক ১০ মিনিট পর, ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিনিশিং দেখা গেলো লুইস সুয়ারেজের পা থেকে। তার গোলেই চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট উঠলো অ্যাটলেটিকোর মাথায়।

২০১৪ সালের পর আবার লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হলো অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। আর সর্বশেষ ৪০ বছরে এটা তৃতীয় শিরোপা মাদ্রিদের এই ক্লাবটির। এর আগে ১৯৯৬ সালে শিরোপা জিতেছিল অ্যাটলেটিকো।

ক্লাবটির কোচ দিয়েগো সিমিওনে দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১০ বছরে অ্যাটলেটিকোকে উপহার দিলেন দুটি লা লিগা শিরোপা, একটি কোপা ডেল রে, একটি সুপার কোপা এস্পানা, দুটি ইউরোপা লিগ শিরোপা এবং দুটি উয়েফা সুপার কাপ।

গত ৫ ডিসেম্বর থেকে অ্যাটলেটিকো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই ছিল অধিকাংশ সময়। এই ভায়াদোয়িদকে হারিয়েই টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল অ্যাটলেটিকো। সেই ভায়াদোয়িদকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হলো তারা। তাদের শিরোপা জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বার্সা থেকে বিতাড়িত লুইস সুয়ারেজ। লিগে মোট ২১টি গোল করেছেন তিনি। কিন্তু শেষ ১৭ ম্যাচে ১৬টি গোল করেন তিনি।


অন্যদিকে নিজেদের মাঠ স্টাডিও ডি স্টেফানোয় ভিয়ারিয়ালের কাছে শুরুতে ধরাশায়ী হয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ২০ মিনিটেই রিয়ালের জালে বল জড়িয়ে দেন ভিয়ারিয়ালের ইয়েরেমি পিনো। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে রিয়াল মাদ্রিদ কোনোভাবেই ফিরে আসতে পারছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ার খানিক আগে (৮৭ মিনিটে) গোল করে রিয়ালকে সমতায় ফেরান করিম বেনজেমা। এরপর ইনজুরি সময়ে গোল করে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন ক্রোয়েশিয়ান তারকা লুকা মডরিচ।

এইবারের মাঠে গিয়ে ১-০ গোলে জিতে এসেছে বার্সেলোনা। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে গোল করে বার্সাকে জেতান আন্তোনিও গ্রিজম্যান।