শনিবার, ৮ মে ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



করোনায় কাতার থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন মৌলভীবাজারের আজির, যাওয়া হল না লন্ডন



বিজ্ঞাপন

সাইফুল্লাহ হাসান :: কাতার প্রবাসী মো. আজির মিয়া (৪০)। বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে পরিবারকে স্বচ্ছল রাখতে পাড়ি জমান দূর প্রবাসে। জীবনের বেশিভাগ সময় পরিবারকে রেখে প্রবাসে কাটিয়েছেন। প্রবাস থেকে দেশে চলে আসেন একেবারে। আত্মীয়-স্বজন সবাইকে বলছিলেন আর যাবেন না কাতারে। কিন্তু হঠাৎ করেই কি ভেবে আবার কাতারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং চলেও গেলেন। যাওয়ার ৩১ দিনের মাথায় আবারও ফিরলেন দেশে, কিন্তু লাশ হয়ে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগৎপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী মো. আজির মিয়া গত ১৪ মার্চ বাংলাদেশ থেকে কাতারে যান। যাওয়ার কিছু দিন পড়েই অসুস্থ হয়ে পরেন। দেখা দেয় করোনায় উপসর্গ। হাসপাতালে ভর্তি হন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৭ এপ্রিল মারা যান তিনি।

দেশে লাশ আসে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল)। দেশে তার আপনজন বলতে চাচাতো ভাই ও বোনের জামাই। আজির মিয়ার ২ ছেলে ১ মেয়েসহ স্ত্রী যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। আয়ের বড় একটি অংশ পরিবারকে যুক্তরাজ্যে পাঠাতে ও বসবাসের পেছনে ব্যয় করেন।

আরও দুই বছর পর তিনিও পরিবারের কাছে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ করেন। সব স্বপ্ন তছনছ করে দিলো করোনা। ছেলে-মেয়ে তাদের বাবকে শেষ দেখাটাও দেখতে পারলো না।


করোনায় মৃত্যুর কারণে কাছে আসতে চান না গ্রামের মানুষ। তখন লাশ দাফন-কাফনের জন্য যোগাযোগ করা হয় বোরহান উদ্দিন (রহঃ) ইসলামি সোসাইটির দাফন-কাফন ও সৎকার টিমের সঙ্গে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে তারা এই দাফন-কাফন শেষ করে। এতে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব, মহা সচিব মিজানুর রহমান রাসেল, সাংগঠনিক সচিব সোহান হোসাইন হেলাল, টিম লিডার আশরাফুল খাঁন রুহেল, দপ্তর সচিব সিরাজুল হাসান, টিম মেম্বার সোহান রহমান, ইয়াসিন তালুকদার, মারুফ আহমদ খান পাভেল, নাঈম আহমেদ সানি ও নাঈম আহমেদ।

মৌলভীবাজার জেলার সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী এ সংগঠন ২০০১ সাল থেকে আর্ত মানবতার কল্যাণে নিবেদিত একঝাঁক তরুণ মেধাবীদের নেতৃত্বে কাজ করছে জেলার শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে। এই করোনা ভাইরাসে মৃত্যুবরণকারী সে যে কোন ধর্মের হোক না কেন, কোন বিনিময় ছাড়াই ছুটে যান তারা দাফন-কাফন ও সৎকারে।

মো. আজির মিয়ার জীবনের এই শেষ যাত্রায় আত্মীয়-স্বজন কিংবা প্রতিবেশীরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে দেখছেন। কেউ কাছে আসছেন না করোনার ভয়ে।

করোনায় মৃত্যুবরণকারীর স্বজন ফজলু মিয়া বলেন, আমার বোনের স্বামী কাতারে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আজ উনার লাশ দেশে এসেছে। যেহেতু করোনায় মারা গেছেন তাই ঝুঁকি এড়াতে আমি বোরহান উদ্দিন সোসাইটিকে জানাই। তারা এসে লাশের দাফনের কাজ সম্পন্ন করেছে।


শেখ বোরহান উদ্দিন সোসাইটির চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ২০টি দাফন-কাফন ও সৎকার করেছি। আমরা একেকটি দাফনে গিয়ে একেক রকমের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। অনেকে এসে জানাজা পড়ছেন, কিন্তু লাশ কিংবা কবরের পাশে কেউ আসছেন না। আমাদের টিমের দৃঢ় মনোবল আছে, যতই ক্লান্তি আসুক আমাদের এই মানবিক কাজটি থামিয়ে রাখবো না। আমরা কিছুদিন পর অক্সিজেন সার্ভিস ও করোনা নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিবো।