শনিবার, ৮ মে ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



দ্রুত ধান কাটার জন্য হাকালুকিতে মাইকিং



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিরূপ আবহাওয়া থেকে বোরো ধান বাঁচাতে দ্রুত ধান কাটতে মাইকিং করা হচ্ছে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন এলাকায়। ধান কাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মাইকিং চলবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় হাকালুকি হাওর পাড়ের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন।

তিনি জানান, আবহাওয়া অফিস সূত্রে জেনেছি সামনের দিনগুলোতে ঘূর্ণিঝড়সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে বোরো ধানের ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রাকৃতিক দূর্যোগে পুরো ফসল যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য মাইকিং চলছে।

হাকালুকি হাওরের কৃষক আব্দুল হালিম জানান, ধান পেকে গেছে। কিন্তু আরও কয়দিন অপেক্ষা করছিলেন যেনো আরও ভালভাবে পাকে। তবে প্রায় রাতে বৃষ্টি হচ্ছে যা ভয় দেখাচ্ছে। কৃষি বিভাগের মাইকিং এর কারণে তিনিসহ অনেকেই বোরো ধান কাটতে উৎসাহিত হচ্ছেন।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে মৌলভীবাজারে চলতি বছর বোরো আবাদ হয়েছে ৫৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর। এতে ২ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর মৌলভীবাজারে বোরো ধানের রেকর্ড উৎপাদন হবে। আবহাওয়ার কারণে যেনো ধান নষ্ট না হয় তাই আমরা দ্রুত ধান কাটতে উৎসাহ দিচ্ছি।

এদিকে হাকালুকির মতো জেলার হাইল হাওর, কাওয়াদিঘী হাওরাঞ্চলের কৃষকের গোলায় বোরো ধান ওঠা নির্ভর করে প্রকৃতির ওপর। কিন্তু ইতোমধ্যেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি মৌলভীবাজারে শুরু হয়েছে। তাছাড়া করোনাকালে শ্রমিক সংকট ভাবিয়ে তুলছে কৃষকদের। তবে প্রসাশন বলছে তারা এই বিষয়ে অবগত হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রসাশক মীর নাহিদ আহসান জানান, কৃষকরা যাতে সময়মতো পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেন সেজন্য জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ তাদের পাশে আছে। করোনার কারণে শ্রমিক সংকটে হতে পারে তাই আমরা আগে থেকেই চা শ্রমিকদের ধান কাটতে যুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছি।