শনিবার, ৮ মে ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



গোলাপগঞ্জে মন্দিরে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টায় পুরোহিত গ্রেফতার



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোলাপগঞ্জ: সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাঘায় মন্দিরে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক পুরোহিতকে গ্রেফতার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেেলার বাঘা কালাকোনা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে একজন পুরোহিত কর্তৃক গরীব অসহায় পরিবারের কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি বাঘা তথা পুরো উপজেলায় তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঐ তরুণী ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য পুরোহিতের কাছে গিয়ে পুরোহিতের লালসার শিকার হয়েছিল বলে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের কালাকোনা গ্রামে শ্রী শ্রী গিরিধারী জিও মন্দিরের পুরোহিত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন টাংগাইল জেলার দেলদোহার থানার সিলিমপুর গ্রামের কালু চৌহান এর পুত্র প্রাণ গবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহান (৪৬)। ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য ঐ পুরোহিতের কাছে প্রায়ই যাওয়া আসা করতেন এলাকার তরুণ-তরুণী সহ বিভিন্ন বয়সী হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা। মন্দিরের পাশ্ববর্তী বাড়ীর জনৈক তরুণী অন্যান্য সময়ের মত গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় ধর্মীয় শিক্ষা লাভের জন্য গেলে মন্দিরের পুরোহিত গবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহান এর লালসার শিকার হন ঐ তরুণী। পুরোহিত ও তার অপর সহযোগী কালাকোনা গ্রামের চতুল দেবের পুত্র দিপংকর দেব তপন (৩৮) মেয়েটিকে মন্দির থেকে জরুরি কাজের কথা বলে মন্দিরের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে তারা মেয়েটির মুখে চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করলে মেয়েটি তাদের কবল থেকে বাঁচতে ও নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে চিৎকার শুরু করে। এ সময় আশপাশ এলাকার লোকজন ও মেয়েটির আত্মীয়-স্বজন এগিয়ে এসে তাকে অর্ধনগ্ন অবস্থা উদ্ধার করেন।

পরে তার তথ্য মতে মন্দিরের পুরোহিত গবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহানকে এলাকাবাসী আটক করে গণধোলাই দিলে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি পুরোহিত স্বীকার করেন। এ সময় পুরোহিতের অপকর্মের সাথী দিপংকর দেব তপন পালিয়ে যায়। বিষয়টি গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়ন তথা বিভিন্ন এলাকায় তুলপাড় সৃষ্টি করেছে।

এদিকে লএ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে গবিন্দ দাস বাবাজি ওরফে ফরেস্ট চৌহান ও দিপংকর দেব তপন এর বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১২/ ১৪-০৪-২০২১ইং) দায়ের করেছেন।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্যজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।