মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



মৌলভীবাজারের খাসিয়া পুঞ্জি এখনও করোনামুক্ত
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

মহামারি করোনায় দেশজুড়ে যখন মৃত্যুর মিছিল ও সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তখন মৌলভীবাজারের খাসিয়া পুঞ্জিগুলোতে এখন পর্যন্ত করোনার কোন সংক্রমণই দেখা যায়নি। স্বাস্থ্যবিধি পালন ও তাদের নিজ কৌশল ব্যবস্থাপনায় ক্ষুদ্র এ নৃ-গোষ্ঠী এখনো করোনামুক্ত।


দেশে করোনা রোগী শনাক্তের আগ থেকেই মৌলভীবাজারের খাসিয়া পান পুঞ্জিগুলোতে লকডাউন ব্যবস্থা চালু করেন পুঞ্জি প্রধান। তখন বাইরের লোকজনদের পুঞ্জিতে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয়। একইভাবে পুঞ্জির লোকজনকেও বাইরে বেরুতে নিষেধ করা হয়। সেইসঙ্গে খাসিয়া পল্লীর প্রত্যেক প্রবেশ পথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়। এমনকি ব্যাপারীদের কাছে বিক্রির জন্য উৎপাদিত পান নির্দিষ্ট একটি স্থানে রাখার উদ্যোগ নেয় তারা।

এছাড়া, মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্য হাট-বাজার থেকে একসাথে কিনে জীবাণুমুক্ত করে তোলা হয় ঘরে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত দূরত্ব বজায়, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে নেয়া হয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এতে মৌলভীবাজারের খাসিয়াদের মধ্যে এখনো সংক্রমণ নেই করোনার।

স্থানীয়রা জানান, ৬ মাস ধরে চলা এই লকডাউনে তারা বাজার করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। নিজেরাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন যেন দৈনন্দিন কাজকর্মে পারস্পারিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়।

করোনা মোকাবেলায় কঠোর উদ্যোগ নেয়ার কথা জানালেন, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের নেতা। আর উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা খাসিয়াদের স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রশংসা করে অন্যদেরও এভাবে নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন।


বৃহত্তর সিলেট আদিবাসি ফোরামের সহ-সভাপতি জিডিশন প্রধান সুচিয়াং জানান, তাদের এই লকডাউন মেনে চলতে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তবুও নিজেদের ভালোর জন্য তারা এই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন।

আর শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, তারা শুরু থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেয়া বিধি মেনে চলছেন। আর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ক্ষেত্রে তো তারা নজির স্থাপন করেছেন।

মৌলভীবাজার জেলার ৬৫টি পুঞ্জিতে ৩০ হাজার খাসিয়া বসবাস করে।