মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



লন্ডনে সিটি পুলিশের তদন্তেও নির্দোষ সাবেক মেয়র সিলেটের লুৎফুর রহমান
লন্ডন প্রতিবেদক

লন্ডন প্রতিবেদক



বিজ্ঞাপন

দ্য সিটি অব লন্ডন পুলিশের তদন্তেও নির্দোষ প্রমাণিত হলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান। গত ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সিটি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে তাঁদের তদন্ত কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।


অনুসন্ধানের জবাবে বুধবার সিটি পুলিশের কমিউনিকেশন্স অফিসার টম ক্যাথিং জানান, ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনার পর সিটি অব লন্ডন পুলিশ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের থার্ড সেক্টর গ্রাণ্ট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের পরিসমাপ্তি টেনেছে। এই অভিযোগে ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে ফৌজধারী ব্যবস্থা গ্রহণের মতো প্রয়োজনীয় প্রমানাদী নেই। আর সিটি পুলিশের উক্ত রিপোর্টের মধ্যদিয়ে এ নিয়ে তৃতীয়দফা তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলেন সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান।

এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতির এমন কোনও সুত্র তারা খুঁজে পায়নি। প্রায় দেড় মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে দীর্ঘ এক বছর তদন্ত শেষে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড উপসংহারে পৌঁছায় যে, লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে বিচার করার মতো যথেষ্ট প্রমাণাদী নেই। ফলে নির্বাচনী আদালত দুর্নীতি ও বেআইনি চর্চার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজাদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

অন্যদিকে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের উক্ত রিপোর্ট প্রকাশের আড়াই মাসের মাথায় (২০ ডিসেম্বর, ২০১৮) টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কর্তৃক নিয়োগকৃত স্বাধীন তদন্ত সংস্থাও লুৎফুর রহমানকে নির্দোষ ঘোষণা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সবধরনের তদন্ত বন্ধ করে দেয়। ২০১৫ সালে নির্বাচনী ট্রাইবুন্যালের রায়ে মেয়রের পদ হতে লুৎফুর রহমানকে অপসারণের পর ‘ক্লিয়ার আপ প্রজেক্ট’ এর আওতায় মোটা অংকের অর্থ ব্যয়ে এ তদন্ত শুরু করেছিলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।


তদন্তকারীরা ২০১০ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত লুৎফুর রহমানের দায়িত্বকালে কাউন্সিলের ইয়ুথ সার্ভিস, অনুদান ও হিউম্যান রিসোর্স বিভাগে তদন্ত পরিচালনা করেন। ২০ ডিসেম্বর কাউন্সিলের মুখপাত্র এ তদন্ত বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১৮ ডিসেম্বর (২০১৮) মঙ্গলবারের বৈঠকে এই প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এরপর চলতি বছরের শুরুতে লন্ডন মেয়র সাদিক খান হঠাৎ করেই লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে ফৌজধারী অপরাধ তদন্তে সিটি অব লন্ডন পুলিশকে নির্দেশনা দেন। ফলে পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে তাঁকে নির্দোষ আখ্যা দিয়ে গত মঙ্গলবার তদন্তের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করে।

এদিকে সিটি পুলিশের রিপোর্টের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শুরু থেকেই বলে আসছেন তিনি কোনো অনিয়ম করেননি। তিনি মনে করতেন, একদিন সত্য উদ্ভাসিত হবেই। আজ সেই সত্য বেরিয়ে আসছে। সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। তিনি সিটি পুলিশ, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ও কাউন্সিলের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত রিপোর্ট তুলে ধরার জন্য।


উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বারার ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হন লুৎফুর রহমান। শৈশবে মা-বাবার সঙ্গে স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যে আসেন ও লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর পরিবার লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস অঞ্চলের বাসিন্দা। লুৎফুর রহমান বো অঞ্চলের ম্যানর প্রাইমারি স্কুলে পড়াশুনা করেন। স্কুল শেষ করার পর তিনি সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশুনা করেন এবং পাস করে আইন পেশায় যুক্ত হন। পরে তিনি সক্রিয় হন রাজনীতিতে। দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৫ সালে নির্বাচনী কোর্টের রায়ে বরখাস্ত হন সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান। মামলার রায়ে তাঁর বাড়ি নিলামে ওঠে। ওই সময় তাকে বরখাস্ত করা হলেও তার বিরুদ্ধে সাজা দেয়নি কোর্ট। কোর্টের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে তদন্তে নামে পুলিশ।


পারিবারিক জীবনে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক লুৎফুর রহমানের দেশের বাড়ি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার সিকন্দরপুর গ্রামে।