শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



সিলেটের বাইপাসে দুই কোটি টাকার জমি নিয়ে উত্তেজনা
খবর: মানবজমিন

খবর: মানবজমিন



বিজ্ঞাপন

সিলেটের শাহপরান বাইপাসে প্রায় দুই কোটি টাকার জমি নিয়ে উত্তেজনা চলছে। জমিতে তৈরি করা মা খাদিজা জামে মসজিদে শনিবার রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে আকৃতি পরিবর্তন করে ফেলেছে এক পক্ষ। সশস্ত্র যুবকরা হামলা চালিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকার মানুষ। এ ঘটনায় শাহপরান থানায় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এদিকে- গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. ফারুক উদ্দিন জানিয়েছেন- ঘরটিকে মসজিদ বানানোর নাম করে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে এলাকার মানুষের কাছে ধর্মীয় সহানুভূতি সৃষ্টি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- সিলেটের শাহপরান বাইপাসের প্রায় দুই একর ভূমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘ দিনের। বিরোধ থাকার পরও এলাকাবাসী ওই জমিতে প্রায় দুই বছর আগে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের নাম দেন মা খাদিজা জামে মসজিদ।

ডা. ফারুক উদ্দিন দুই একর জমি তার নিজের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে গত ১৫ দিন ধরে আপসের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালানো হয়।

কিন্তু প্রবাসী শাকুর সিদ্দিকী অংশের লোকজন আপস নিষ্পত্তির মধ্যে সিলেটের এডিএমে মামলা করে জমির উপর স্থগিতাদেশ নিয়ে নেন। একই সঙ্গে শাহপরান থানার ওসিকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এতে ক্ষেপে যান ডা. ফারুকের অংশের লোকজন। তারা ২৬শে এপ্রিল সিলেটের শাহপরান থানায় মসজিদের সহকারী মোতাওয়াল্লী ও সাংবাদিক মুজিবুর রহমান ডালিমসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ লোকমান আহমদ ও আলম মিয়া নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালত থেকে জামিন পান। মসজিদের সহকারী মোতাওয়াল্লী মুজিবুর রহমান ডালিম গতকাল জানিয়েছেন- গত শনিবার মধ্যরাতে নগরীর টিলাগড়ের শতাধিক যুবক সশস্ত্র অবস্থায় মা খাদিজা মসজিদে যায়। সেখানে গিয়ে তারা মসজিদ ও এতিমখানায় হামলা চালায়। এ সময় তাদের হামলায় মসজিদ ও এতিমখানায় থাকা লোকজন ভয়ে সরে যান।

এ অবস্থায় তারা মসজিদ ও এতিমখানায় ব্যাপক ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা মসজিদের মিনারের মাইকসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আকৃতি পরিবর্তন করে ফেলে। পরে ডা. ফারুক আহমদ নামের এক ব্যক্তির সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়। এদিকে- এ ঘটনায় রাতেই বাদী হয়ে মসজিদ কমিটির সদস্য আবদুল মান্নান শাহপরান থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মুজিবুর রহমান ডালিম জানিয়েছেন- ২৬শে এপ্রিল একটি চাঁদাবাজি মামলায় তিনিসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় সর্বশেষ গতকাল মসজিদের ইমাম হাফিজ মাওলানা নোমান আহমদ ও এতিমখানার খাদেম কুতুবুন নেছা গতকাল মেট্রোপলিটন আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। এর আগে লোকমান আহমদ ও আলম মিয়া নামের আরো দুইজন জামিন পান। মামলা দিয়ে ভীতি সৃষ্টি করে তারা শনিবার রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে মসজিদের আকৃতি পরিবর্তন করে বাসা বানিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে।

এদিকে- ভূমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গতকাল সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করেছে ডা. মো. ফারুক উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন- বর্তমানে বিএস জরিপে ভূমি আমার নিজ নামে রেকর্ড হলে সেখানে আমার নামের সাইনবোর্ডও টানিয়ে দিয়েছিলাম। যা এলাকার সর্বসাধারণের জানাও রয়েছে। এত বছর ধরে সেখানে কোনো স্বত্ব দাবিদারও আসেনি। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে শাহপরান এলাকার প্রত্যাশা টাওয়ারের বাসিন্দা মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান ও মেজরটিলার প্যারাগন টাওয়ারের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন সিলেটের কানাইঘাটের শাকুর সিদ্দিকী চৌধুরীর নাম করে এ ভূমি দখল করতে যায়। এ সময় তারা আমায় হুমকি-ধমকিও দেয়। দাবিকৃত চাঁদা না পাওয়ায় শাকুর সিদ্দিকীর নির্দেশনায় মুজিবুর রহমান ডালিম একদল সন্ত্রাসী নিয়ে গত ১৯শে মার্চ আমার ভূমিতে নির্মিত আধাপাকা ঘর ভাঙতে যায়। তিনি জানান- গত ২২শে এপ্রিল দুপুরে তারা ওই ভূমিতে বাউন্ডারি ও ঘরের মালামাল ভাঙচুর করে এবং আমার নামের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে দিয়ে নতুন করে ‘মসজিদের নামে’ সাইনবোর্ড লাগায়।

সিলেটের শাহপরান থানার ওসি আক্তার হোসেন গতকাল জানিয়েছেন- পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যে এজাহার দেয়া হয়েছে সেটি তদন্ত করা হবে। এর আগে এ ঘটনায় একটি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। সুতরাং এক ঘটনায় একাধিক মামলা হতে পারে না বলে দাবি করেন তিনি।