শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



৩৩ বছর পর এই করুণ দশা রিয়ালের!
খেলাধুলা ডেস্ক

খেলাধুলা ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

টানা ৪ ম্যাচ। সময়ের হিসেবে ৬ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট। এখানে আরও একটা তথ্য আগেই জানিয়ে রাখাটা ভালো, ৩৩ বছর! পরিসংখ্যানের মালায় গাঁথা এই গল্পটা রিয়াল মাদ্রিদের গোল করতে না পারার দুরবস্থার! লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে টানা ৪ ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ বিশ্বসেরা রিয়াল মাদ্রিদ। ভাবা যায়! ৪ ম্যাচের সময়টা হিসেব করলে হয় ৬ ঘণ্টা। কিন্তু আক্ষরিক অর্থে রিয়ালের গোল করতে না পারার সময়ের হিসেবটা ৬ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট।

রিয়াল সর্বশেষ গোলটা করেছে গত ২২ সেপ্টেম্বর। এসপানিওলের বিপক্ষে ম্যাচের একমাত্র গোলটা করেছিলেন মার্কো এসেনসিও। ম্যাচের ৪১ মিনিটে। মানে ওই ম্যাচের বাকি ৪৯ মিনিটে আর কোনো গোল করতে পারেনি রিয়াল। এরপর টানা ৪ ম্যাচে গোলহীন। সব মিলে তাই গোলখরার দৈর্ঘ্যটা ৬ ঘণ্টা ৪৯ মিনিটের!

একটা-দুইটা ম্যাচে হয়তো গোলখরা গেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে কখনোই এতোটা লম্বা সময় ধরে গোলখরায় কাটাতে হয়নি রিয়ালকে। ফুটবল পরিসংখ্যানবিদরা পরিসংখ্যানের পাতা ঘেটে আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে, রিয়াল সর্বশেষ এমন দুর্দশার মুখোমুখি হয়েছিল সেই ১৯৮৫ সালে। সেবার অবশ্য রিয়াল টানা ৫ ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল। রিয়ালের ইতিহাসেই গোলহীন থাকার রেকর্ড এটা।

৩৩ বছরের পুরোনো সেই লজ্জার রেকর্ডটার খুব কাছেই জুলিয়েন লোপেতেগুইয়ের রিয়াল। আর ৪১ মিনিট গোলহীন থাকলেই সেই রেকর্ডটা ছুঁয়ে ফেলতে পারবে। ৪২ মিনিট গোলহীন থাকলে তো গড়ে ফেলবে লজ্জার নতুন রেকর্ডই!

পরিস্থিতি যা, তাতে রেকর্ডটা লোপেতেগুইয়ের শিষ্যরা নতুন করে গড়ে ফেলবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোল করতে না পারার অর্থটা স্পষ্টই। সর্বশেষ ৪ ম্যাচের ৩টিতেই হেরেছে রিয়াল। অন্য ম্যাচটিতে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল।

স্বাভাবিকভাবেই দলের টানা এই গোলখরা দেখে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর চলে যাওয়ার হাহাকারটা আরও বড় হয়ে উঠেছে। এমনকি গতকাল শনিবার রাতে আলাভেসের মাঠেও রিয়াল সমর্থকেরা বিলাপ করলেন রোনালদো লেখা প্লেকার্ড নিয়ে।

গত ৯ বছর ধরে রিয়ালকে গোলবন্যায় ভাসানো রোনালদো অভিমান করে যোগ দিয়েছেন জুভেন্টাসে। তার বিকল্প হিসেবে নামীদামী কোনো তারকাকেই কিনতে পারেনি রিয়াল। অতি-আত্মবিশ্বাসী রিয়াল কর্তারা নিজেদের ঘরের গ্যারেথ বেল, করিম বেনজেমা, মার্কো এসেনসিওদের উপরই আস্থা রাখেন। এই তিনজনের সঙ্গে আক্রমণভাগের শক্তিটা আর একটু বৃদ্ধি করতে কিনে আনে মারিয়ানোকে।

কিন্তু বেল, বেনজেমা, এসেনসিও, মারিয়ানো-কেউই প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে পাচ্ছেন না। ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় অনেক সময় মিডফিল্ডার, ডিফেন্ডাররাও ত্রাতা হয়ে উঠেন। টনি ক্রুস, লুকা মড্রিচ, কাসেমিরো, ভারানে, সার্জিও রামোসরাও রিয়ালকে অনেকবারই গোল করে দলকে উদ্ধার করেছেন। কিন্তু বর্তমানে রিয়ালের সময়টা এতোই খারাপ যে, মিডফিল্ডার-ডিফেন্ডাররাও খরা কাটাতে পারছেন না!

রিয়ালের এই করুণ পরিণতির শুরুটা সেভিয়ার কাছে ৩-০ গোলের হার দিয়ে। এরপর অ্যাতলেতিকোর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। সেই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১-০ গোলে হেরেছে রাশান ক্লাব সিএসকেএ মস্কোর কাছে। আর গতকাল তো পুঁচকে আলাভেসের কাছেই ১-০ গোলে ধরাশায়ী।

ব্যর্থতার কানাগলি পেরিয়ে রিয়াল কবে জয়ে ফিরবে? এই প্রশ্নের চেয়েও বার্নাব্যুতে এখন বড় প্রশ্ন, রিয়াল কবে গোলখরা কাটাতে পারবে?