বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



তামিমই রহস্য ভাঙলেন সেই সাহসী মুহূর্তের
খেলাধুলা ডেস্ক

খেলাধুলা ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়া কাপের মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। যদিও ম্যাচটি শুরু হয়েছিল লাথিস মালিঙ্গার রুদ্ররূপ দিয়ে। কিন্তু, ম্যাচ শেষে আলোচনায় টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল।

ব্যাটিং করতে নেমে বাঁ-হাতে চোট পেয়ে বাইরে চলে যেতে হয় তাকে। হাসপাতালে নিয়ে স্ক্যান করালে জানা যায়, কব্জির হাড় ভেঙে গেছে। ৬ সপ্তাহের মতো মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

সেই তামিমকেই কিনা দেখা গেল দু’ঘণ্টা পর ভাঙা হাত নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামছেন! দলের প্রয়োজনে তামিমের এমন বীরত্বে স্তম্ভিত ক্রিকেট দুনিয়া। কিন্তু, ঝুঁকি জেনেও কোন প্রেরণা তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে সাহসী করেছেন, তা নিজেই জানিয়েছেন তামিম ইকবাল।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বা-হাতি এই ওপেনার জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি নেন মূলত অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। শেষ ওভারে যদি মুশফিক স্ট্রাইকে থাকে, তবে মাঠে নামতে হবে আমাকে।

তামিম প্রথমে ভেবেছিলেন মাশরাফী হয়তো মজা করে বলেছেন কথাটি, ‘মাশরাফী ভাই যখন বলছিলেন আমার ব্যাট করতে যাওয়া উচিত, আমি ভেবেছিলাম তিনি মজা করছেন। সিদ্ধান্ত ছিল, শেষ ওভারে যদি মুশফিক স্ট্রাইকে থাকে তবে আমি ব্যাট করতে নামব। আমাকে শুধু সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।’

কিন্তু, যখন সিদ্ধান্ত হয়ে গেল তখন আর কোনো দ্বিধা ছিল না কারো মধ্যে। রুবেল ক্রিজে থাকতেই প্রস্তুতি নিয়ে নেন তামিম। বাঁ-হাতের আঙুলে ব্যান্ডেজ থাকায় গ্লাভস কেটে তামিমকে পরিয়ে দেন অধিনায়ক। তামিমের কথায়, ‘রুবেল ক্রিজে থাকতেই আমি প্যাড পরতে শুরু করি। মাশরাফী ভাই আমাকে গ্লাভস কেটে দেন। জীবনে প্রথমবার অন্য কেউ আমাকে গার্ড পরিয়ে দিয়েছিল। মুমিনুল হক ও অন্যরা আমাকে প্যাড পরতে সাহায্য করেছিল। সবাই আমাকে খুব সাহস দিচ্ছিল।’

তবে দলের প্রয়োজনে নামলেও কাজটা যে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল তা স্বীকার করেছেন তামিম। দেশের প্রতি কমিটমেন্টের কারণে এই ঝুঁকি নিতে পিছপা হননি তিনি, ‘এখন ভাবলে মনে হয়, কাজটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হাতটি আমার পেছনে ছিল। কিন্তু, শট খেলার সময় ওটি সামনে চলে গিয়েছিল। যদি আমি বলটা মিস করতাম, তবে সেটা এসে আমার হাতে লাগতো।’

মোস্তাফিজ যখন আউট হন মুশফিক তখন নন স্ট্রাইকে। অর্থাৎ তামিমকে নামতে হলে একটি বল খেলতেই হবে। এ সময় অন্যরা কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও তামিম নেমে গেলেন মাঠে, ‘যখন সেই মুহূর্ত আসল, তখনো জানি না কী ঘটতে যাচ্ছে। আমি কিছুই ভাবতে পারছিলাম না। মোস্তাফিজ যখন আউট হলো, আমি এক সেকেন্ডও ভাবলাম না। মাঠে নেমে গেলাম। আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমি নিশ্চিত কিনা, আমার মধ্যে কোনো দ্বিধা ছিল না।’

তারপরই ক্রিকেট বিশ্ব দেখল সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ভাঙা হাত নিয়ে প্রতিপক্ষের বল মোকাবেলা করতে প্রস্তুত বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি এইভাবে, ‘বোলার দৌড়ে আসার ওই ১০ সেকেন্ড আমি খুবই সাহস অনুভব করছিলাম। স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকদের চিৎকার আমাকে সাহস যোগাচ্ছিল। কিন্তু, ওই সময় আমি দল ও দেশের প্রতি খুবই প্রতিজ্ঞবদ্ধ ছিলাম।’

খ্যাতি বা প্রসংশার জন্য নয়, এমন সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত তামিম নিয়েছিলেন দেশের জন্য, ‘এমন অভিজ্ঞতা আমার আগে কখনো হয়নি। আমি এখন সবার প্রতিক্রিয়া দেখছি। কিন্তু, মাঠে নামার সময় এসব আমার মাথায় ছিল না। আমি শুধু দল ও দেশের জন্য এটা করেছি।’