রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ



৩২ বছরের অপেক্ষার অবসান হবে আজ?
খেলাধুলা ডেস্ক

খেলাধুলা ডেস্ক



বিজ্ঞাপন

এশিয়া কাপের দ্বিতীয় আসরের প্রথমবার অংশ নেয় বাংলাদেশ। ওই আসরটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়, ১৯৮৬ সালে। তারপর কেটে গেছে ৩২ বছর। এসময়ে অনুষ্ঠিত প্রতিটি আসরেই অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু একবারও শিরোপার স্বাদ পায়নি তারা। অবশ্য দীর্ঘদিন আন্ডারডগ হিসেবেই খেলেছে। এই শতাব্দীর শুরুর দিক পর্যন্ত ক্রিকেটের উদীয়মান শক্তি ছিল টাইগাররা। ফলে শিরোপার প্রশ্ন ওইভাবে আসেনি।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ প্রথম জয় পায় ২০০৪ এর আসরে, হংকংয়ের বিপক্ষে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করে দৃশ্যপট। আন্ডারডগ দল থেকে পরিণত হতে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বী দলে। যার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ২০১২ সালের আসরে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ওই আসরে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠে টাইগাররা। কিন্তু মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে মাত্র ২ রানে হেরে যায় মুশফিকুর রহীমের দলটি।

টানটান উত্তেজনার ম্যাচে জিতব জিতব করে শেষ পর্যন্ত হার। ওই হারের কষ্টের মধ্যে তাই লুকিয়ে ছিল রোমাঞ্চও! শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৯ রান। হাতে ছিল ২ উইকেট। কিন্তু সমীকরণটা মেলাতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ, রাজ্জাকরা। রাজ্জাকের উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলতে পারে ৬ রান। পেতে হয় ২ রানের কষ্ট।

২০১৬ সালে টি-টুয়েন্টি এশিয়া কাপেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার অবশ্য ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। ২০ ওভারের ক্রিকেটের একমাত্র এশিয়া কাপের ফাইনালটিতে অনায়াসেই জিতে যায় ভারত। বাংলাদেশের করা ১২০ রান ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩.৫ ওভারেই টপকে যায় ভারত। বাংলাদেশের মানুষ পায় শিরোপা জিততে না পারার দ্বিতীয় কষ্ট।

কিন্তু বারবার স্বপ্নভঙ্গে তো বিচলিত নয় টাইগাররা। ধ্বংস থেকে উঠে দাঁড়ানোর প্রেরণা নিয়েই এবার আরব আমিরাত গিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। অনেক রোমাঞ্চ শেষে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে তারা। এবারও প্রতিপক্ষ ভারত। এবারের আসরের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল তারা। এখন পর্যন্ত অপরাজিত দলও।

কিন্তু বাংলাদেশ তো পেছনে ফেলে এসেছে অনেক কান্নার ইতিহাস। রোমাঞ্চ আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখে লিখেই উঠে এসেছে ফাইনালে। সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে ছাড়াই খেলেছে পুরো টুর্নামেন্ট। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে ছিলেন না বিশ্বের অন্যতম সেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। তবু জয় ছিনিয়ে নিতে কোন অসুবিধা হয়নি টাইগারদের। প্রতি মুহূর্তে জয়ের অদম্য বাসনা নিয়ে যারা খেলে তাদের হারাবে কারা?

তামিম-সাকিব না থাকলেও দলে এখনও আছেন মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহদের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানরা। চাপের মুখে বহুবার জ্বলে উঠেছে তাদের ব্যাট। আর বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেনরাও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। সবশেষে নেতৃত্বে আছেন মাশরাফি। দলকে উজ্জীবিত করে খাদের কিনারা থেকে তুলেছেন বহুবার।

এশিয়া কাপের সবশেষ চার আসরের মধ্যে বাংলাদেশ ৩ বারই উঠেছে ফাইনালে। আগের দুইবার শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হতে হয়েছে। এবার কি দুবাইতে সাফল্যের নতুন গল্প লিখতে পারবে মাশরাফির দল। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ৩২ বছরের শিরোপার খরা কি কাটবে অবশেষে? উত্তর জানা যাবে আজ রাতেই। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি।