শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



জুড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত যুবকের লাশ তিনদিন পর ফেরত



বিজ্ঞাপন

ফাইল ছবি

ডেস্ক রিপোর্ট: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বটুলি সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আব্দুল মুমিন বাপ্পার মরদেহ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

ঘটনার তিনদিন পর সোমবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় বিজিবির প্রতিনিধি দলের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরে সেই মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি।

এর আগে নিহত বাপ্পার বাবা আবদুল রউফ ছেলের মরদেহ ফেরত চেয়ে বিজিবির কাছে লিখিত আবেদন করেন। মরদেহ ফেরত না পাওয়ায় সোমবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফুলতলা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।


এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার ২১ মার্চ দুপুরে ভারত সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মরদেহ ফেরত নিতে বিজিবিকে চিঠি দেয় বিএসএফ। তখন বিজিবি মরদেহ নেয়ার বিষয়টি পরে বিএসএফকে জানাবে বলে পতাকা বৈঠকের সমাপ্তি করে চলে আসে।

ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকা ভারতের কদমতলা থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার জানান, বিজিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিজিবিকে মরদেহ গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। বিজিবি মরদেহ নেয়ার ব্যাপারে পরে জানাবে বলে বৈঠক সমাপ্তি করে।

তিনি আরও জানান, পরে সোমবার দুপুরে নিহত বাংলাদেশি যুবক বাপ্পার মরদেহ নিয়ে বিএসএফ সীমান্তে অপেক্ষা করে। এরপরও মরদেহ ফেরত নেয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় গ্রামবাসী বিজিবি ক্যাম্পের সামনে বিক্ষোভ করেন।

ফুলতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিইও) শাহ আলম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সোমবার সন্ধ্যায় মরদেহ গ্রহণ করে নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

জুড়ি থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এসময় বিজিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শনিবার (২০ মার্চ) ভোরের দিকে উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের পূর্ব বটুলী এলাকায় বাংলাদেশি পিলার ৮২৩ এর বিপরীত পাশে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার অভ্যন্তরে আব্দুল মুমিন বাপ্পার মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের পূর্ব বটুলী গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে।