শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



সুনামগঞ্জে ভেঙে পড়লো নির্মাণাধীন সেতু



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জে নির্মাণাধীন কুন্দানালা সেতুর গার্ডার ভেঙে পড়েছে। হাইড্রোলিক জ্যাক ফেটে যাওয়ায় পুরো সেতুর দুই পাশের গার্ডার ধসে পড়েছে। রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউসকান্দি আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই সেতু তৈরি করা হচ্ছিলো। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ করায় এমনটি হয়েছে।

দুটি প্যাকেজে পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউসকান্দি আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে মোট ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ পেয়েছে এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড। রবিবার রাতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ভাতগাঁও গ্রামের পাশে কুন্দানালা খালের নির্মাণাধীন সেতুতে গার্ডার লাগানোর সময় হাইড্রোলিক জ্যাকের তার ফেটে প্রথমে একটি গার্ডার ধসে যায়। পরে সেতুতে থাকা সবগুলো গার্ডার বিকট শব্দ করে খালে দেবে যায়।


ভাতগাঁও গ্রামের শিব্বির আহমেদ বলেন, রাতে আমরা সেতু এলাকায় বিকট শব্দ শুনতে পাই। তখন গ্রামের সবাই মিলে গিয়ে দেখি পুরো সেতু ভেঙে খালে পড়ে গেছে। এর মাত্র আধ ঘণ্টা আগে সেতুর কর্মরত শ্রমিকরা সাইট ছেড়ে চলে যান। না হলে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটতো।

গ্রামের বাসিন্দা সামচ্ছুজামান বলেন, পুরো সেতুর মধ্যভাগে কোনও পিলার নেই। তাই ভেঙে পড়েছে বলে তাদের ধারণা। এছাড়া সেতুতে ছোট ছোট রড ব্যবহার করা হয়েছে।

গ্রামের আকিক মিয়া বলেন, নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই সেতু ভেঙে পড়ায় এর পুরো কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিন উদ্দিন বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এমন হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি চাই।

এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার হারুন অর রশীদ বলেন, হাইড্রোলিক জ্যাকের তার ফেটে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। কাজে কোনও ধরনের অনিয়ময় হয়নি। পুরো সেতু আবার মেরামত করে দেওয়া হবে। এমএম বিল্ডার্স সেতুর কোনও বিল তোলেনি। সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রী সওজ ও বুয়েট পরীক্ষা করে দিয়েছে। অনিয়ময়ের কোনও সুযোগ নেই।

সুনামগঞ্জ সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মেকানিক্যাল সমস্যার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে সরকারের কোনও ক্ষতি হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনও বিল দেওয়া হয়নি। তারা এটি পুনঃনির্মাণ করে দেবে। এতে ঠিকাদারের ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।