বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



সিলেটে সিসিটিভিতে ধরা পড়লো ব্যাংক কর্মকর্তা খুনের দৃশ্য



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে ব্যাংক কর্মকর্তা মওদুদ আহমদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা প্রথমে অস্বীকার করেছিলো অটোরিকশার পরিবহন শ্রমিকরা। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তারা পুলিশকে জানিয়েছিলো। বিষয়টিকে তারা ধামাচাপা দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে। এ নিয়ে প্রথমে তারা পুলিশকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছিলো। পরে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে ব্যাংক কর্মকর্তা খুনের ঘটনার সত্যতা পায় পুলিশ।

শনিবার রাতে সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো ব্যাংক কর্মকর্তা মওদুদ আহমদকে। তিনি জৈন্তাপুরের হরিপুরের গ্যাসফিল্ড শাখার অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ)। তার মূল বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুরের টেংগুড়িপাড়া গ্রামে।


সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আলোচিত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির দেড়শ’ গজের মধ্যে কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় ঘটনার রাতে ব্যাংক কর্মকর্তা মওদুদ আহমদ সিএনজি অটোরিকশাযোগে আসেন। এরপর অটোরিকশা শ্রমিক নোমান হাসনুর সঙ্গে তার প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। এ দৃশ্য দেখে আশেপাশের কয়েকজন সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক এগিয়ে যান।
এক পর্যায়ে তারা মওদুদকে দলবেঁধে মারধর করেন। এতে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা রাস্তার উপরই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। এ দৃশ্য দেখলেও আশেপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি। কয়েক মিনিট পর স্থানীয় মুরাদ ও ইউনূস নামের দুই ব্যক্তি ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান।

সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি এসএম ফরহাদ জানিয়েছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলে প্রথমে জানানো হয়েছিলো। কিন্তু লাশ দেখে তো সেটি মনে হয়নি। লাশের শরীরে কোথাও দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কোনো আঘাতের চিহ্ন মিলেনি। আমার সন্দেহ হওয়ায় লাশ দেইনি। পরে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে হামলার ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় রহস্য উন্মোচিত হয়। এবং শেষ পর্যন্ত থানায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে পরিবহন শ্রমিকদের কথা বিশ্বাস করে নিহতের স্বজনরাও দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মেনে নিয়ে লাশটি নিয়ে যেতে চাইছিলেন। আমরা লাশ নিয়ে যেতে দেইনি।’

এদিকে খুনের ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা সিএনজি অটোরিকশাচালক নোমান হাসনুর। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কয়েকটি টিম তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে। ওসি জানান, ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা কয়েকজন সিএনজি চালককে আটক করা যাচ্ছে না। আটকের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এলাকার সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন, তিনি নিজেও কোতোয়ালি থানায় গিয়ে ফুটেজ দেখেছেন। ওই ফুটেজে দেখা গেছে, মারধরের কারণেই মারা গেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি দাবি করেন- ভাড়া নিয়ে বচসার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছিলো। অন্য কোনো কারণ তার জানা নেই। ঘটনার পর থেকে চালক হাসনুর হদিস মিলছে না। হাসনুকে পুলিশে তুলে দিতে তারাও চেষ্টা করছেন। ক্রাইমের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারাই ক্রাইম করবে তাদের শাস্তি হতে হবে বলে জানান তিনি।


এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা মওদুদ আহমদ খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সিএনজি অটোরিকশাচালক নোমান হাসনুরকে। তার বাড়ি সিলেট শহরের টুকেরগাঁওয়ের পশ্চিমপাড়া গ্রামে। সে টুকেরবাজার থেকে কোর্ট পয়েন্ট রুটে সিএনজি অটোরিকশা চালায়। শনিবার রাতে ঘটনার কিছু সময় পর্যন্ত সে কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় ছিল। এরপর হঠাৎ করে সে ‘হাওয়া’ হয়ে যায়।

তার কয়েকজন সহকর্মী সিএনজি অটোরিকশাচালক জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তারা উপস্থিত ছিলেন না। তবে পরে জেনেছেন দুর্ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর বেশি তারা কিছু জানেন না।