বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



মৌলভীবাজারে পরিবহণ শ্রমিকদের কাছে জিম্মি যাত্রীরা



বিজ্ঞাপন

সাইফুল্লাহ হাসান :: মৌলভীবাজার-শমশেরনগর রুটে পরিবহন শ্রমিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। রাস্তা সংস্কার না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে দিগুণ ভাড়া আদায় করছেন তারা।

এ নিয়ে যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিকভাবে একাধিকবার আবেদন করলেও কোনো প্রতিকার হয়নি। প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকারও হতে হয় অভিযোগ রয়েছে।

ব্যস্ততম ওই রোডে মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মৌলভীবাজার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, সমাজ সেবার এতিম ও প্রতিবন্ধী মেয়েদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চক্ষু হাসপাতাল, রেডিও পল্লী কণ্ঠের অফিস, এম ঈসরাইল এ এম আমীর উচ্চ বিদ্যালয়, জিরেনিয়াম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


এছাড়াও ওই রোড দিয়ে বিএফ শাহীন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন। সব মিলিয়ে ওই রোড দিয়ে প্রতিদিন কমলগঞ্জ, শমসেরনগর, কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গলের কয়েক হাজার লোকের যাতায়াত।

এদিকে মৌলভীবাজার-শমশেরনগর রোড দীর্ঘদিন পর সংস্কারের কাজ বেশিরভাগই সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই রোডের মাতারকাপন এলাকা থেকে আতুরের ঘাট পর্যন্ত নতুন পিচ ঢালাই হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে সংস্কার চলাকালীন সময়ে দিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ফুড বিভাগের বিভাগীয় প্রধান খাদেমুল বাশার বলেন, ‘সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি কলেজের শিক্ষার্থীদেরকেও দিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। কলেজে যাতায়াতের সময় ভাড়া নিয়ে প্রতিনিয়ত বাকবিতণ্ডা হয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের পক্ষে ওই ভাড়া দেওয়া সম্ভব হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সিএনজি চালক ১০ টাকা ভাড়ার জায়গায় ২০ টাকা দাবি করলে আমি এর প্রতিবাদ করি। তখন সিএনজি চালক আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে সম্মান বাঁচাতে ২০ টাকা দিয়ে চলে আসি।’

ওই ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ পর্বের শিক্ষার্থী আল মিজান বলেন, ‘রাস্তা ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেও দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মহসিন বলেন, ‘২০ টাকা ভাড়ার জায়গায় ৩৫/৪০ টাকায় দিতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সিএনজি চালকরা খারাপ ব্যবহার করেন।’


মৌলভীবাজার-শমসেরনগর রোডের সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠনের সভাপতি সুজা মিয়া বলেন, ‘রাস্তা খারাপ থাকায় বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তবে জোর করে নয়। আগামী শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শ্রমিকরা বসে পূর্বের ভাড়ায় ফিরে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করব।’

জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি-পরিচালক আল-আমিন বলেন, ‘ব্যস্ততম এই রোডে এভাবে দফায় দফায় ভাড়া বাড়ানো বেআইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’