বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন পুনঃস্থাপন কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা নিয়ে শঙ্কা



বিজ্ঞাপন

রিপন দে :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজের মেয়াদ শেষ হলেও বাকি এখনো ৭০ শতাংশ। এদিকে, কাজের মেয়াদ আরও দুই বছর বৃদ্ধি করা হলেও সঠিক সময়ে তা শেষ করা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। ইতিমধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভারতের কালিন্দি রেল নির্মাণ কোম্পানি।

সম্প্রতি কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলওয়ে পুনর্বাসন প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, পুরনো রেললাইন অপসারণ করে এক্সেভেটর দিয়ে মাটি ভরাট করে রেলপথটি উঁচু ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। রেল ব্রিজ ভেঙে সেগুলো করা হচ্ছে পুনর্নির্মাণ। জুড়ী অংশে দখলকৃত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে রেল কর্তৃপক্ষ। শাহবাজপুর, বড়লেখা, মুড়াউল, দক্ষিণভাগ স্টেশনের পুরাতন ভবন, প্ল্যাটফর্মসহ সব স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে নতুন ভবন, প্ল্যাটফর্ম ও স্থাপনার কাজ এখনো শুরু হয়নি।


কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কালিন্দি রেল নির্মাণের ব্যবস্থাপক (সিভিল) আশরাফুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর চালু হয় কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথটি। বিএনপি সরকারের আমলে ২০০২ সালের ৭ জুলাই বন্ধ করে দেওয়া হয় দীর্ঘ ১০৬ বছর চালু থাকা এ রেলপথটি। ট্রেন চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময়ে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখার মানুষ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সভা-সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।

এরপর ভারত ও বাংলাদেশ বন্ধ লাইনটি চালুর উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালের ২৬ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেকে) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার টাকার অনুমোদিত প্রকল্প পরে সংশোধন করে ৫৪৪ কোটি টাকা ধরা হয়। কাজের ঠিকাদারি পায় ভারতীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কালিন্দি রেল নির্মাণ কোম্পানি। ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট থেকে পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়। কাজের মেয়াদ ধরা হয় দুই বছর। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মেয়াদ শেষে দেখা যায় মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে কাজের মেয়াদ ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।


প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কুলাউড়া-শ্রীমঙ্গল এবং সিলেটের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী জুয়েল হোসাইন বলেন, রেলপথের জায়গার ওপর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের খুঁটিগুলো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ২৮-৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। ধীরগতির ও মেয়াদ বৃদ্ধিতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে কি না, সেটা এখনো জানা যায়নি।