বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



জুড়ীতে গুড়িয়ে দেয়া হলো নদী পারের ৮০টি ভবন



বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ভারত থেকে নেমে আসা জুড়ী নদীর দু’পাশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা। নদীর দু’পাশের জায়গা দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট তৈরি করে বেদখল করে রেখেছিল দখলদাররা। এতে নদীর দু’পাশ ভরাট হয়ে নদীটি পরিণত হয়েছে খালে। অবৈধস্থাপনা গুলো উচ্ছেদের জন্য অনেকবার দখলদারদেরকে নোটিশ দেওয়া হলেও তাতে কর্ণপাত করেনি দখলদাররা।

মৌলভীবাজারের জুড়ী নদীর দু’পারে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনায় দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান দ্বিতীয় দিনের মতো চলে। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের অভিযানে নদীপারের একটি অংশে গড়ে উঠা হাজী মাহমুদ আলী শপিং কমপ্লেক্স এর তিনতলা ভবনের নদীর অংশ গুড়িয়ে দেয়া হয়। দুইদিনের অভিযানে ছোট বড় ৮০টি বিল্ডিং গুড়িয়ে দেয়া হয়। এসব অভিযানে ১০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা।


স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী মনিরুল ইসলাম জানান, নদীর দু’পারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খবর পেয়ে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমান। উৎসুক জনতাকে সামাল দিতে পুলিশের অনেকটা বেগ পেতে হয়। উচ্ছেদের সময় দখলকৃত অনেকেই খাস জমির বন্দোবস্ত কাগজ দেখালেও শেষ রক্ষা হয়নি।

অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান রুহুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান, সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আল-আমিন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আখতারুজ্জামান জানান, জুড়ী নদীর দুই পাশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে একটি পক্ষ। নদীর জায়গা দখল করে অনেকেই স্থায়ী বিল্ডিং, ঘরবাড়ি ও দোকানপাট স্থাপন করে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। অবৈধভাবে নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা গড়ে তোলায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ অনেকটা বিঘ্নিত হয়ে পড়ে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছদের জন্য ইতিমধ্যে অনেকবার দখলদারদেরকে নোটিশ দেওয়ার পরও অনেকে স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় আমরা অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উদ্ধার করছি। অবৈধ স্থাপনা উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরান রুহুল ইসলাম বলেন, যারা জুড়ী নদীর দু’পার দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। নদীর পার দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা দখলদারদের কোনক্রমেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, নদীর সরকারি জায়গা উদ্ধারের পাশাপাশি কেউ যাতে পুনঃদখল করতে না পারে আমরা সেদিকে কঠোর নজর রাখব। আজকের অভিযানের মধ্য দিয়ে দু’দিনের অভিযান সমাপ্ত হয়েছে। পরবর্তীতে আরও অভিযান চালানো হবে।