শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



সিলেটে ২৬৬৮ গৃহহীন ঘর পাচ্ছেন শনিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: সিলেট বিভাগে ৯ হাজার ৯৪৮ ভূমিহীন পরিবারের জন্য আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে ২ হাজার ৬৬৮ ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে পাকাঘরের চাবি হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. ফজলুল কবীর জানান, বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় ৪ হাজার ১৭৮, মৌলভীবাজার জেলায় ১ হাজার ৭৫, হবিগঞ্জে ৭৮৭ ও সুনামগঞ্জে ৩ হাজার ৯০৮ ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১ হাজার ৪০৬, সুনামগঞ্জে ৪০৭, হবিগঞ্জে ৩১৩ এবং মৌলভীবাজারে ৫৪২টি ঘর আগামীকাল শনিবার উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


নির্মিত প্রতিটি ঘরে বারান্দাসহ দুটি কক্ষ, একটি রান্নঘর, একটি বাথরুম ও অন্যান্য উপকরণ রয়েছে। ঘরের সামনে এবং পেছনে রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা। প্রথম ধাপে সিলেট জেলার সদর উপজেলায় ১৭টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া বালাগঞ্জে ১৪০টি, বিশ্বনাথে ১২০টি, কোম্পানীগঞ্জে ১৫৭টি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ৭২টি, গোলাপগঞ্জে ৭৭টি, গোয়াইনঘাটে ২৫০টি, কানাইঘাটে ১৯৩টি, জৈন্তাপুর উপজেলায় ১২০টি, জকিগঞ্জে ৫৫টি, ওসমানীনগরে ১৪০টি, বিয়ানীবাজারে ৫০টি ও দক্ষিণ সুরমায় ১৫টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে।

সদর উপজেলায় ১৪৪, দক্ষিণ সুরমায় ১২০, ওসমানীনগরে ৫৩৩, বিশ্বনাথে ৬৬৯, বালাগঞ্জে ৮৭৫, গোলাপগঞ্জে ২০০, বিয়ানীবাজারে ১০৪, গোয়াইনঘাটে ৫০০, জৈন্তাপুরে ৩৩০, ফেঞ্চুগঞ্জে ১৩০, কানাইঘাটে ১৯৩, জকিগঞ্জে ১৩০ ও কোম্পানীগঞ্জে ২৫০ ঘর বরাদ্দ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ঘর নির্মাণ করে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মুজিববর্ষে সব গৃহ ও ভূমিহীনদের (ক শ্রেণির) ঘরসহ ভূমি উপহার দিতে সরকারি জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ২ শতক ভূমিতে প্রতিটি টিনশেডের আধাপাকা ঘর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গৃহ ও ভূমিহীনদের তালিকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

অন্যদিকে, মৌলভীবাজারে ১ হাজার ২২৬টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে আগামীকাল শনিবার হস্তান্তর হচ্ছে ৫৪২টি ঘর। মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৪৭৬টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। জুড়ী উপজেলায় ৭টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। ইতোমধ্যে সবগুলোই প্রস্তুত করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৩০০ ঘরের মধ্যে ১০০টি, কমলগঞ্জে ৮৫টির মধ্যে ৬০টি, রাজনগরে ৯৮টি ঘরের মধ্যে ৯০টি, কুলাউড়ায় ১১০টির মধ্যে ৮৫টি এবং বড়লেখা উপজেলায় ৫০টি ঘর বরাদ্দ দিয়ে সবগুলোই প্রস্তুত করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৩৫টির মধ্যে ৫০টি, বাহুবল উপজেলায় ৫৭টির মধ্যে ২০টি, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দ ৫৫টির মধ্যে ২৫টি, লাখাই উপজেলায় বরাদ্দ ৭৭টির মধ্যে ১৮টি, নবীগঞ্জ উপজেলায় ১১০টির মধ্যে ২৫টি, বানিয়াচংয়ে ১০৫টির মধ্যে ৩৭টি, আজমিরীগঞ্জে ৮৮টির মধ্যে ২০টি, চুনারুঘাটে ৮০টির মধ্যে ৭২টি এবং মাধবপুর উপজেলায় বরাদ্দ ৮০টির মধ্যে ৪৬টি ঘর হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

এদিকে, সুনামগঞ্জ জেলায় বরাদ্দ ৩ হাজার ৯০৮টি এরমধ্যে মাত্র ৪০৭টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। শাল্লা উপজেলায় ১ হাজার ৫৮১টির মধ্যে ১৬০টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৫০টির মধ্যে ৩০টি, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪০০ ঘরের মধ্যে ৫০টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ১৫১ ঘরের মধ্যে ১০টি, ছাতক উপজেলায় ১৫০টির মধ্যে ১০টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২৬০টির ১০টি, দিরাই উপজেলায় ৭৪৬ ঘরের মধ্যে ৪০টি, জগন্নাথপুর উপজেলায় ১০০টির মধ্যে ২৩টি, তাহিরপুর উপজেলায় ৭০টির মধ্যে ২৫টি, বিশ^ম্ভরপুরে বরাদ্দ ৫০টির মধ্যে ৩০টি, ধর্মপাশায় ৩০০টির মধ্যে ৩৪টি এবং জামালগঞ্জে ১০০টির মধ্যে ২৫টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে।


সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. ফজলুল কবীর জানান, মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন সব পরিবারকে নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শনিবার সকালে তিনি নিজেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ঘর উপহার দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

মো. ফজলুল কবীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ঘর উপহার দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধনের পর সিলেট বিভাগের ২ হাজার ৬৬৮টি গৃহহীন পরিবারকে নতুন ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। নতুন ঘর তৈরি শেষে বাকিদের পর্যায়ক্রমে ঘর হস্তান্তর করা হবে।’