শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



লন্ডন লাশের সারি, সিলেটের ওসমানীনগরে স্বজনদের আহাজারি



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: ব্রিটেনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি মারা যাচ্ছেন! যাদের অধিকাংশের বাড়ি সিলেটের। সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত ওসমানীনগরের মানুষ প্রবাসীদের নিয়ে আছেন দুঃচিন্তায়। প্রতিদিন আসছে করোনায় আক্রান্ত স্বজনদের মৃত্যুর সংবাদ। এ পর্যন্ত করোনায় প্রায় সহস্রাধিক বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে ব্রিটেনে। এমন অবস্থায় সিলেটের ওসমানীনগরে থামছে না স্বজনদের আহাজারি।

ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসীদের নানা সহযোগিতার কারণে ওসমানীনগর একটি সমৃদ্ধশালী উপজেলা হিসেবে গড়ে উঠেছে। আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও প্রতিবেশী গরীব মানুষের আর্থিক সহযোগিতায় বিরাট ভূমিকা রয়েছে ব্রিটেন প্রবাসীদের। করোনায় বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে সে পথ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওসমানীনগরের মানুষ। কখন জানি মৃত্যুর সংবাদ আসে!


স্বজন ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রবাসীদের জন্য চলছে দোয়া-প্রার্থনা। এমনকি শুক্রবার জুমআর নামাজের পর সকল মসজিদে বিশেষ দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) ব্রিটেনে করোনায় সিলেটের ওসমানীনগরের আব্দুল হান্নান (৫২) নামের এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। আব্দুল হান্নান ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে আব্দুল হান্নানের শ্যালক সুপার চৌধুরী জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১০ দিন পূর্বে লন্ডনের রয়েল হাসপাতালে ভর্তি হন আব্দুল হান্নান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্রিটেন সময় বুধবার (২০ জানুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে ব্রিটেনে বসবাস করছিলেন।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ব্রিটেনে ওসমানীনগরের দুই সহোদরসহ ৩ জন মারা গেছেন। দুটি হাসপাতালে তারা মৃত্যুবরণ করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হোটেল ব্যবসায়ী বুরুঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর তিলাপাড়া গ্রামের বদরুল ইসলাম (৪৩)। দুপুর ১২টার দিকে মারা যান তার বড় ভাই কবির আহমদ (৬০)। একই দিন ভোর সাড়ে ৬টায় লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা যান উমরপুর ইউনিয়নের হামতনপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী চিকন মিয়া (৫২)।

করোনায় মারা যাওয়া বদরুল ইসলামের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৫ দিন আগে বদরুল ইসলাম ও এক সপ্তাহ আগে কবির আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

ব্রিটেন প্রবাসী সফিক মিয়া জানান, চারদিকে শুধু এ্যাম্বুলেন্সর শব্দ, মৃত্যুর সংবাদ। বড় চিন্তায় আছি। প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। যে প্রবাসীরা দেশকে দেশের মানুষকে সহযোগিতা করেছিলো। আজ তাদের অবস্থা বিপর্যস্ত। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন-এই মহামারি থেকে আল্লাহ যেন রক্ষা করেন।


লন্ডনের বাসিন্দা হাজী আজম উল্ল্যাহ বলেন, এখনো সুস্থ আছি সবার দোয়ায়। আমার সন্তানরা ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। আমাকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছে। একটি রুমে কাটিয়ে দিয়েছি আজ ছয়মাস হলো। বাইরে কি হচ্ছে কিছুই জানিনা। ছেলেদের বলেছিলাম আমাকে দেশে পাঠিয়ে দিতে তারা বললো ফ্লাইট নাকি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ওসমানীনগরের এডভোকেট শাহিদুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমাদের উপজেলার অধিকাংশ প্রবাসী ব্রিটেনে বসবাস করেন। সেই ব্রিটেনে আমাদের প্রবাসীরা করোনায় বিপর্যস্ত। প্রতিধ্বনি করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংবাদ আসছে। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। দেশবাসীর কাছে তাদের জন্য দোয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।