শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



সিলেটে জাঁকজমক চেম্বারে দাঁতের চিকিৎসা করতেন ‘ফাইভ পাস’ লাভলু



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: কোনোরকমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছেন এমএসইউ লাভলু। মাধ্যমিকে না গেলেও তিনি এখন নামকরা ডেন্টিস্ট। রয়েছে জাঁকজমক চেম্বার। চেম্বারে দামি ডেন্টাল ইউনিটও রয়েছে। তবে নেই শুধু তার ডিগ্রি।

লাভলুর বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ছত্তিশ গ্রামে। বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির (বিডিএস) সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী তিনি একজন ‘হাতুড়ে দন্ত চিকিৎসক’।


২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর সিলেটের গোয়াইঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে ভুয়া ডাক্তার লাভলুকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এরপরও লাভলু নিজেকে ডেন্টিস্টের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন।

গোয়াইনঘাটে সাজা ভোগ করার পর এবার সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজারে বর্তমানে অ্যাপেলো ডেন্টাল কেয়ার চালাচ্ছেন এমএসইউ লাভলু। ডেন্টাল কেয়ারের সাইনবোর্ডে ঢাকা থেকে আগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও রোগীদের নিজের নামে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন লাভলু।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অ্যাপেলো ডেন্টাল কেয়ারে দাঁতে ব্যথা, দাঁত তোলা, স্ক্যালিং, ফিলিং (লাইট কিউরসহ), দাঁত বাঁধানো (পিডি, সিডিসহ), উঁচু ও বাঁকা দাঁত সমান করা, রুট ক্যানেল জিএনজি ভাইটিস, দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়াসহ নানা রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

এত কিছু থাকলেও এ ডেন্টালে এসে রোগীরা অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। নামের আগে ডেন্টিস্ট লিখে লাভলু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতো ফি নিয়ে নিয়মিত চেম্বারে রোগী দেখছেন।

লাভলুর অপচিকিৎসার শিকার হওয়া উপজেলার ছত্তিশ গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক এনাম বলেন, আমি দাঁত ফিলিং করতে লাভলুর কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমার ভালো একটি দাঁতকে কালো করে দিয়ে বলেছিলেন এক সপ্তাহ ওষুধ সেবন করতে। তার কথা অনুযায়ী আমি ওষুধ সেবন করি। তিন সপ্তাহ পর তিনি আমার দুটি দাঁত তুলে ফেলেন। আমার দাঁতে নাকি চিকিৎসা করলে ভালো হবে না। এতে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির (বিডিএস) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) স্বীকৃত ডিগ্রি ছাড়া কেউ ডাক্তার সেজে চিকিৎসা দিতে পারবেন না। নিয়ম অনুযায়ী এমএসইউ লাভলু ভুয়া ডাক্তার হিসেবে বিবেচিত।


এ ব্যাপারে এমএসইউ লাভলুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কোর্স করে আমি ডিডিটি ও এমভিডি উপাধি পেয়েছি। বিএমডিসি থেকে আমি রেজিস্ট্রেশন পেয়েছি।

সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, লাভলু তার নামের পাশে যে ডিগ্রিগুলো (ডিডিটি ও এমভিডি) ব্যবহার করছেন সেগুলো কোনো বড় ডিগ্রি না। যদি তিনি সাধারণ বা ডিপ্লোমাধারী কোনো কোর্স করেন তাহলে তিনি ডাক্তারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তিনি কোনো রোগীর দাঁতে অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না।