বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



তিনি কবর থেকে ওঠে এসেই হলেন পীর !



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: ঠিক যেন নাটকের মতো। সাধারণ ধান্ধাবাজ মানুষের ওঠে আসার গল্প। পীর শাহাবউদ্দিন শাহ। আগে পিছে লাগানো পীর ও শাহ শব্দটি তার নামের সাথে জুড়ে দিয়ে নামটিকে ওজনদার করা হয়েছে মাত্র। বয়স আনুমানিক ৫০ হবে।


সোফায় হাঁটু গেড়ে বসলেন শাহাবউদ্দিন। উপরে তাকিয়ে আঙুলের কড় গুনে বিড়বিড় করে কি যেন বলছিলেন তিনি। এর মধ্যেই ডেরায় ভিড় করেছে বেশ কয়েকজন ভক্ত। তারা উঠে বসলেন আস্তানায় রুমে থাকা খাটিয়ার উপর। তাদের কাউকে কাউকে বলতে শোনা গেলো। ‘বাবা’ যখন কবরে ছিলেন লোকজন তাকে বিভিন্ন মাজারেও দেখেছেন। তার মুখ থেকেই শোনা যাক তার কথা।
সাহাবুদ্দিন : বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। ছোটবেলায় চট্টগ্রাম চলে আসেন। বনে বাদারে ঘুরে বেড়াতেন। তিনি অনুভব করতেন ভেতরে কিছু একটা ঘটছে। একা একা বসে থাকতেন পাহাড়ের চূড়ায়। জীবন জীবিকার জন্য কখনো রিক্সা চালিয়েছেন,ব্যবসা বাণিজ্য করেছেন । এর মধ্যে একবার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ব্যানারে সহ সভাপতি পদে নির্বাচনও করেছেন। জিততে পারেন নি। বিয়ে শাদি করেছেন। জীবনের মোড় ঘোরাতে পারছিলেন না। আল্লাহকে স্মরণ করতেন। খাজা বাবাকে ডাকতেন। মাঝে মাঝে সিন্নি দিতেন। গরিবদের খাওয়াতেন। স্বপ্নে আদেশ পেয়ে দরোজা বন্ধ করে ধ্যানে বসতেন। কখনো দুই দিন কখনো তিনদিন। এর পর থেকে অনেক নারী পুরুষ রোজ তার কাছে আসতেন বিভিন্ন উসিলা নিয়ে। তিনি তাদের ঝাড়ফুঁক দিয়ে তাদের ভাল করার চেষ্টা করতেন। তিনি মনে করেন ভালো করার মালিক আল্লাহ।

আল্লাহর দিদার : কথার ফাঁকে জানতে চাওয়া হলো কবরের বিষয়ে, ঝিমধরে চোখবুজে এবার বলতে শুরু করলেন, ‘মাস ছয় আগের কথা। আমার নাতির একটা কঠিন রোগ হয়েছিল। কোন ডাক্তার-কবিরাজে কাজ হলো না। একদিন খালেক বাবার সন্ধান পাইলাম। তিনি নদীর ওপারে মইজ্জারটেকে থাকেন। তার কাছে নাতিকে নিয়ে গিয়ে সালাম দিলাম। দেখামাত্রই খালেক বাবা আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তার চিকিৎসায় আমার নাতির কঠিন রোগ ভাল হল। আমি তিন ডেক তবরুক গরিবদের বিলিয়ে দিলাম। এরপর থেকে খালেক বাবার প্রতি আমার ভক্তিশ্রদ্ধা বাড়তে থাকে। একদিন খালেক বাবার সাথে আমার দেখা হলো ভিন্ন রূপে, গায়েবি রূপে। এরপর একরাতে স্বপ্নে চিল­ায় যাওয়ার আদেশ পাই। বিষয়টি খালেক বাবাকে বলার পর তিনি ব্যবস্থা করলেন। তার কথা মতো বায়েজিদ মার্কেট থেকে কাফনের কাপড় কিনে আনি। ঘরের পাশেই কবর খুঁড়ে, কাফনের কাপড়ে আমাকে ওই কবরে দিলেন। আল্লার দিদারে গেলাম। কথা ছিল ৪১ দিন অন্ধকার কবরে থাকার। ১৫ দিন পর আদেশ আসল উঠে আসার। খালেক বাবার হাত ধরে আবার কবর থেকে উঠে আসলাম। এ সময় আমার হুঁশ ছিল না। হুঁশ ফিরলে দেখি আমার চারপাশে অনেক মানুষ।


ভিন্ন কথা : আরেফিন নগর বাজারের একজন মুদির দোকানদার বললেন, ‘আমার দোকানের চালের টিন খুলে কয়েক লাখ টাকার মালামাল চুরি করেছিল সে। খোঁজাখুঁজির পর মালামালসহ ধরা পরে। থানা পুলিশ করলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে মাফ চেয়েছে শাহাবুদ্দিন। এটা বেশি আগের ঘটনা না। দুই স্ত্রী, ৩ সন্তানের জনক শাহাবউদ্দিন অন্তত তিন জায়গায় এক কানি জমি দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করে ভাড়ায় লাগিয়ত করেছেন। দুই স্ত্রী দুই জায়গায় থেকে দেখাশোনা করেন। শাহাবুদ্দিনের সাথে আরো একটা বড় ভণ্ড আছে তার নাম আবদুল খালেক প্রকাশ খালেক বাবা। তিনিই মূল নায়ক, খালেক বেশ কিছুদিন আরেফিন নগরেই ছিল। এখান থেকে পালিয়ে কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেকে আস্তানা গেড়েছে’।